জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের সমাবেশে ফ্যাসিবাদ ও সংবিধান সংশোধনের তীব্র সমালোচনা
ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি কনভেনশন সেন্টারে আজ শুক্রবার বিকেলে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ফ্যাসিবাদের বিস্তার ও সরকারের সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন। ঢাকা জেলা জামায়াতের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি জনগণের রায়কে অবলীলায় অগ্রাহ্য করার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের সূচনা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।
ফ্যাসিবাদের সংক্রমণ ও সংবিধান সংশোধনের প্রশ্ন
শফিকুর রহমান বলেন, 'ফ্যাসিবাদ একজন থেকে আরেকজনে সংক্রমিত হয় এবং সেই সংক্রমণ ইতিমধ্যে আমরা লক্ষ করছি। জনগণের রায়কে অবলীলায় অগ্রাহ্য, অপমান, অস্বীকার করার নামই হচ্ছে ফ্যাসিবাদের সূচনা। আমরা দেশে আর ফ্যাসিবাদ চাই না।' তিনি বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, 'ওনারা বলছেন, সংবিধানে গণভোট নাই। আমাদের প্রশ্ন, এই দলটির জন্ম যাঁর হাতে, তাঁর হাতেই প্রথম বাংলাদেশে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন কি সংবিধানে সেই গণভোটের প্রভিশন ছিল? তখন যদি এটা জায়েজ হয়ে থাকে, এখন নাজায়েজ হয় কীভাবে?'
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তিনি অভিযোগ করেন যে জনগণ গণভোটে তাঁদের রায় দিলেও সরকার সেটি না মেনে এখন সংবিধান সংশোধন করতে চাচ্ছে। সংবিধান সংশোধন ও সংস্কারের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, 'একটা হচ্ছে পুরোনো জামা ছিঁড়ে গেছে, ওইটাকে কেটে জোড়া দিয়ে পরানো। আরেকটা হচ্ছে গায়ের জামার তিনটা অংশ; ছেঁড়া অংশটা পুরো ফেলে দিয়ে সেখানে নতুন জামা পরানো। আমরা ওই কাটাছেঁড়া জামা আর জাতির গায়ে পরাতে চাই না।'
সংকট সমাধানে বিরোধী দলের অবস্থান
শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে সংকট সমাধানে এখনো সময় শেষ হয়ে যায়নি এবং বিরোধী দল চেয়েছে সংসদে সমস্যার সমাধান হোক, কিন্তু সরকার সেটি গ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, 'এর মাধ্যমে জনরায় বাস্তবায়নে তারা বিরোধী দলকে জনগণের কাছে যেতে বাধ্য করছে। যে জনগণ খালি হাতে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের মোকাবিলা করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরিবর্তন এনেছিল, সেই জনগণ এখনো জেগে আছে।'
তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন যে জনগণের ন্যায্য অধিকার জনগণের হাতে তুলে না দেওয়া পর্যন্ত ১১ দল এবং জামায়াতে ইসলামীর লড়াই অব্যাহত থাকবে। 'সরকার জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে ও দুঃশাসন চালাতে চাইলে বিরোধী দল অতীতের মতো লড়াই করে যাবে,' বলেন তিনি। যুবসমাজকে দেশপ্রেম ও ইমানের হাতিয়ার আবার শাণিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'যেমন আগে নেমেছি, এখনো আবার নামব এবং জনগণের এই দাবি আমরা আদায় করে ছাড়ব, ইনশা আল্লাহ।'
জ্বালানি সংকট ও শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা
বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রেক্ষাপটে সরকারের অনলাইন ও সশরীর মিলিয়ে ক্লাস চালুর প্রস্তাবের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, 'সে (শিশু শিক্ষার্থী) যখন স্বাধীন থাকবে, তারে দেখবে কে? সে যদি ডিভাইস টেবিলের ওপরে ফেলে রেখে দিয়ে খেলতে লাগে, তাও তো করার কিছু নেই। ঘুমাইয়া পড়ে, তাও করার কিছু নেই; যদি তারা খুনসুটি খেলে ভাইবোনেরা, তাও করার কিছু নেই। এভাবে মেধার অপমৃত্যু ঘটবে।'
জ্বালানি সংকট নিয়ে তিনি বলেন, 'সরকার বলে কোনো সমস্যাই নেই। এমনভাবে বিবৃতি দেওয়া হয় সংসদের ভেতরে, মনে হয় যেন সমস্যা তো নেই–ই, বরং উদ্বৃত্ত তেলের ওপর ভাসছে বাংলাদেশ। লজ্জা।' তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'আমরা জিজ্ঞেস করেছি, তা–ই যদি হয় তাহলে একেকজন গাড়িচালক, একেকজন বাইকচালককে কেন তাহলে পেট্রলপাম্পের সামনে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। কিলোমিটারের পর কিলোমিটার কেন লাইনে থাকতে হয়, কেন তাদের রোদে শুকাতে হয়, কেন তাদের বৃষ্টিতে ভিজতে হয়?'
শফিকুর রহমান আরও বলেন, 'এটা লজ্জার ব্যাপার, সরকার কেন সবাইকে নিয়ে খোলা মনে বসছে না। বাস্তব অবস্থা কেন তুলে ধরছে না। আমরা সবাই এই সংকট নিরসনের অংশীদার হতে চাই। আমরা তো সংকট তৈরি করতে চাই না। কিন্তু কি জানি শুধু একটা লুকোচুরি সব ব্যাপারে আমরা লক্ষ করি। কী যেন অস্পষ্টতা। আমরা সরকারকে আহ্বান জানাব, এটা থেকে বের হয়ে আসুন।'



