জুলাই হত্যা মামলায় জামিন পেয়ে প্রধান শিক্ষিকাকে হত্যাচেষ্টা: আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার
জুলাই হত্যা মামলায় জামিন পেয়ে প্রধান শিক্ষিকাকে হত্যাচেষ্টা

জুলাই হত্যা মামলায় জামিন পেয়ে প্রধান শিক্ষিকাকে হত্যাচেষ্টা: আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম সুজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে এক নারী প্রধান শিক্ষিকাকে হত্যাচেষ্টা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার একাধিক মামলা রয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ সকালে আমিনুল ইসলাম সুজন তার সহযোগীদের নিয়ে ব্রাহ্মণপাড়ার বেড়াখলা আবদুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যান। সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোসা. হাসিনা ইসলামের কক্ষে ঢুকে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ৩০ মার্চ ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বাদী হয়ে আমিনুল ইসলামসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।

আমিনুল ইসলামের পটভূমি

জানা গেছে, আমিনুল ইসলাম এক সময় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি পদটি ছেড়ে দেন। পরে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ও ভুয়া ডিজি প্রতিনিধি পরিচয়ে পুনরায় ওই পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তিনি আদালতে সপদে বহাল হওয়ার রায় পেয়েছেন দাবি করে কর্মস্থলে যোগ দিতে যান। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা চেয়ার ছাড়তে আপত্তি জানালে বাগবিতণ্ডা ও হামলার ঘটনা ঘটে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্বের মামলা ও জামিন

এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় করা একটি মামলায় আমিনুল ইসলাম গ্রেফতার হয়েছিলেন। সম্প্রতি ওই মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে এ কাণ্ড ঘটান বলে অভিযোগ রয়েছে। কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি শামসুল আলম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা নগরী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আজ আদালতে সোপর্দ করা হবে।"

এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলছে। আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।