প্রধানমন্ত্রীর উপহারে বদলে গেল টুলি বেগমের জীবন: রাজশাহীর এক সংগ্রামী নারীর নতুন ভোর
প্রধানমন্ত্রীর উপহারে বদলে গেল টুলি বেগমের জীবন

প্রধানমন্ত্রীর উপহারে বদলে গেল টুলি বেগমের জীবন: রাজশাহীর এক সংগ্রামী নারীর নতুন ভোর

রাজশাহীর বড়গাছি মালপাড়া আশ্রয়কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা টুলি বেগমের জীবনযুদ্ধের গল্প গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়। বিএনপির চেয়ারম্যান ও 'আমরা বিএনপি পরিবারের' প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে অসহায় এই নারীর পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপি পরিবার।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে প্রধানমন্ত্রীর সহমর্মিতা

'অটোরিকশার চাকার শব্দে বেঁচে থাকা। স্বামী-সন্তানেরা খোঁজ নেয় না, তবুও অটোরিকশা চালিয়ে মা টুলি বেগমের বেঁচে থাকার লড়াই' শীর্ষক প্রতিবেদনটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তা দেখতে পান। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে টুলি বেগমের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে রাজশাহীর বড়গাছি মালপাড়া আশ্রয়কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর একটি প্রতিনিধি দল টুলি বেগমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যায়। দলটির নেতৃত্বে ছিলেন নরসিংদী রায়পুরার সংসদ সদস্য ও 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল। এ সময় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনও উপস্থিত ছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার

প্রতিনিধি দলটি টুলি বেগমের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেয়। এ সময় টুলি বেগমকে একটি নতুন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উপহার ও নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রতিনিধি দলটি টুলি বেগমকে আশ্বস্ত করে যে বিএনপি পরিবার সর্বদা তার পাশে থাকবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে অত্যন্ত খুশি টুলি বেগম বলেন, 'আমাকে উপহার পাঠানোয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। উনি অনেক বড় মনের মানুষ। আমি কতটা খুশি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। নতুন রিকশাটি পাওয়ায় আমার পরিবারের জীবিকা নির্বাহে সহায়ক হবে। আমি মহান আল্লাহর দরবারে প্রধানমন্ত্রীর জন্য অনেক অনেক দোয়া করি।'

টুলি বেগমের সংগ্রামী জীবন

৪৬ বছর বয়সী টুলি বেগমের জীবনযুদ্ধের গল্প অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। করোনাকালে চরম অভাবের সংসার ছেড়ে একে একে চলে যান তার স্বামী ও দুই ছেলে। দুই মেয়ে ও এক নাতিকে নিয়ে তিনি পড়েন গভীর সংকটে। এরই মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ে তার নাতি। ঘরে খাবার নেই, ওষুধ কেনার সামর্থ্যও ছিল না তার।

এমন পরিস্থিতিতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূর থেকে রাজশাহী শহরে এসে ভাড়ায় অটোরিকশা চালানো শুরু করেন টুলি বেগম। টানা প্রায় পাঁচ বছর ধরে এভাবেই জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। প্রতিদিন অটোরিকশার জন্য তাকে গুনতে হতো ৩০০ টাকা ভাড়া, ফলে অনেক দিনই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাকে।

টুলি বেগম শুধু অটোরিকশা চালিয়েই জীবিকা নির্বাহ করেন না, তিনি একজন সৃজনশীল ব্যক্তিত্বও বটে। নিজের কর্মজীবন নিয়েই তিনি গান লিখেছেন; নিজেই গীতিকার, সুরকারও নিজেই। অটোরিকশা চালানোর সময় নিজের লেখা সেই গানই গেয়ে ওঠেন তিনি। প্রতিদিন সকালে শহরে এসে অটোরিকশা চালিয়ে রাতে বাড়ি ফিরে যান এই সংগ্রামী নারী।

বিএনপি নেতাদের বক্তব্য

প্রধানমন্ত্রীর উপহার হস্তান্তরকালে 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, 'অসহায় টুলি বেগমের বিষয়টি গণমাধ্যমে দেখতে পেয়ে আমাদের মানবিক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান 'আমরা বিএনপি পরিবারকে' তার পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে আমরা এসে তাকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি।'

তিনি আরও বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শুধু টুলি বেগম নয়, সারাদেশে অসংখ্য খুন ও গুমের শিকার পরিবার এবং অনেক অসহায় পরিবারকে এভাবে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে 'আমরা বিএনপি পরিবার' আগামীতে আরও বড় পরিসারে এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারব বলে আশা করছি।'

এ সময় 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর সদস্য কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, সদস্য মাসুদ রানা লিটন, ফরহাদ আলী সজীব, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীসহ বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

টুলি বেগমের জীবনের এই পরিবর্তন শুধু একটি পরিবারের ভাগ্য বদলায়নি, বরং এটি মানবিক সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি মহৎ উদাহরণ তৈরি করেছে, যা সমাজের বিভিন্ন স্তরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়।