জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মন্ত্রিসভার কঠোর সিদ্ধান্ত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য একগুচ্ছ কঠোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সরকারি ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সরকারি কার্যক্রমে গাড়ির জন্য মাসিক বরাদ্দ করা জ্বালানির ৩০ শতাংশ কম নেবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি ব্যয় সংকোচনের বিস্তারিত পদক্ষেপ
তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়াও বন্ধ থাকবে। এছাড়া, সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখা হবে এবং অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে। সভা ও সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং সেমিনার-কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ, সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান ও কম্পিউটার কেনা শতভাগ বন্ধ এবং সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দ করা জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে। সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
অফিস ও বিপণিবিতানের নতুন সময়সীমা
সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলবে বলে নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত খোলা থাকবে, তবে ব্যাংকিং সেবা সকাল ১০টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। জরুরি সেবা ব্যতীত সব অফিস ভবন, বিপণিবিতান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ছয়টায় বন্ধ করতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিপণিবিতানগুলো সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধের এই সিদ্ধান্ত এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বাস্তবায়ন করবে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ
বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বিত কর্মকৌশলে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া, সারের উৎপাদন, মজুত ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করা, শিল্প উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার স্বার্থে শিল্প খাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির জোগান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আগামী তিন মাস দেশব্যাপী সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে। আলোকসজ্জা পরিহারসহ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গৃহীত কর্মকৌশল বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। প্রয়োজনে পর্যাপ্তসংখ্যক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
জ্বালানি তেলের ব্যবহার ও পরিবেশদূষণ কমাতে পরিবেশবান্ধব সম্পূর্ণ নতুন ইলেকট্রিক বাস নিবন্ধিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিনা শুল্কে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সর্বসাকল্যে ২০ শতাংশ শুল্কে আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী, মেয়াদ উত্তীর্ণ যানবাহনগুলো ক্রমান্বয়ে সড়ক থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী মন্ত্রিসভা-বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে বলে তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, আবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ, অনাবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় শতভাগ কমানোর বিষয়েও মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় বলে তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে।



