তারেক রহমান সরকারের প্রশাসনিক সংস্কার: ডিসি-ইউএনও বদল ও দক্ষ আমলা নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত
তারেক সরকারের প্রশাসনিক সংস্কার: ডিসি-ইউএনও বদল

তারেক রহমান সরকারের প্রশাসনিক সংস্কার: ডিসি-ইউএনও বদল ও দক্ষ আমলা নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসনে ব্যাপক সংস্কার ও রদবদল শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক স্থবিরতা দূর করতে এবং কাজের গতি বাড়াতে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিদায় করে আস্থাশীল, দক্ষ ও অভিজ্ঞদের স্থলাভিষিক্ত করার প্রক্রিয়া সরকার চূড়ান্ত করেছে।

মাঠ প্রশাসনে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, তবে বড় পরিবর্তন আসবে শিগগিরই। আগামী মে মাসে অনুষ্ঠেয় জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের আগেই মাঠ প্রশাসনের খোলনলচে বদলে ফেলা হতে পারে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রমতে, মাঠ পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)। তাই শুরুতেই এই দুই পদে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে গত ১ মার্চ গাজীপুর, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া, নেত্রকোনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসিদের প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ১৫ মার্চ সেখানে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাকি জেলাগুলোতেও দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের পদায়নের প্রস্তুতি শেষ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে মাঠ পর্যায় থেকে অদক্ষ ও বিতর্কিত ইউএনওদের সরিয়ে নতুনদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সচিবালয় ও পুলিশ প্রশাসনেও পরিবর্তন

শুধু মাঠ প্রশাসন নয়, সচিবালয়ের শীর্ষ পদগুলোতেও পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার ১২ জন সিনিয়র সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনেও এসেছে বড় পরিবর্তন; আইজিপি এবং ডিএমপি কমিশনারসহ অধিকাংশ মহানগরে নতুন নেতৃত্ব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দক্ষ প্রশাসনের গুরুত্ব ও রাজনৈতিক দর্শন

সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূঁইয়া বলেন, “রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে দক্ষ প্রশাসনের বিকল্প নাই। আর দক্ষ প্রশাসন নিশ্চিতে প্রয়োজন অভিজ্ঞ, সৎ ও কর্মঠ আমলা। অনবিজ্ঞ বা অদক্ষ আমলা দিয়ে সুষ্ঠু সরকার পরিচালনা সম্ভব নয়।”

এদিকে সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন বলেন, “বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে দক্ষ প্রশাসন খুবই জরুরি। খাল কাটা কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, স্মার্ট কৃষি কার্ড বিতরণ ও আপামর জনসাধারণের জন্য হেলথ কার্ড বিতরণসহ নানামুখী কল্যাণকর কর্মসূচি বাস্তবায়নে অভিজ্ঞ আমলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাদের থাকতে হবে রাজনৈতিক দর্শন। রাজনৈতিক দর্শন ব্যতীত আমলা দিয়ে অভিজ্ঞ প্রশাসন হবে না, আর অভিজ্ঞ প্রশাসন ছাড়া তারেক রহমান ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে দক্ষ প্রশাসন গোছানো এখন সময়ের দাবি।”

নতুন সরকারের পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরেছে বিএনপি। দল হিসেবে পুরনো হলেও জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত এই রাজনৈতিক দলটি এবার এসেছে নতুন নেতৃত্ব, আধুনিক চিন্তা ও জনকল্যাণমুখী নতুন কর্মসূচি নিয়ে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত তারেক রহমানের সরকারের বয়স ইতোমধ্যে এক মাস অতিবাহিত হয়েছে।

এই স্বল্প সময়েই সরকার তার নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে এসব উচ্চাভিলাষী ও সংস্কারমূলক কর্মসূচি মাঠ পর্যায়ে সফলভাবে পৌঁছে দিতে প্রয়োজন একটি আস্থাশীল, দক্ষ এবং অভিজ্ঞ সিভিল প্রশাসন।

উল্লেখ্য, আগামী ৩ থেকে ৬ মে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। ৩ মে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। এই সম্মেলনের আগেই সরকার মাঠ প্রশাসনের সংস্কার কাজ শেষ করতে চায়, যাতে নতুন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সরকারের নীতি ও দিকনির্দেশনা তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়।