শরীয়তপুরে ছাত্রলীগ-বিএনপি সংঘর্ষ: আটজন আহত ও বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়া
শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলায় ছাত্রলীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আটজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুটি বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নেভান। আজ শুক্রবার দুপুরে ধানকাঠি ইউনিয়নের চৌধুরীবাড়ী এলাকায় এই সংঘর্ষ সংঘটিত হয়।
সংঘর্ষের পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ
ডামুড্যা থানা ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে ডামুড্যা উপজেলা ছাত্রলীগের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক শাওন চৌধুরী ও বিএনপি সমর্থক মালেক খানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শাওন চৌধুরী এলাকা থেকে পালিয়ে যান। এবার ঈদের আগে তিনি গ্রামে ফিরে আসেন।
আজ শুক্রবার দুপুরে শাওন চৌধুরী তাঁর বাড়ির পাশের একটি চায়ের দোকানে সমর্থকদের নিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন। সেখানে তাঁর সমর্থক মিন্টু ব্যাপারীকে মালেক খানের লোকজন মারধর করে। এই ঘটনায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে মালেক খান তাঁর লোকজন নিয়ে শাওনের বাড়িতে হামলা চালান। শাওন ও তাঁর এক সমর্থককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়।
এরপর শাওনের লোকজন পাল্টা হামলা চালিয়ে মালেক খান ও তাঁর সমর্থকদের ছয়জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেন। মালেক খানকে কুপিয়ে আহত করে শাওনের বাড়ির উঠানে ফেলে রাখা হয়।
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও পরবর্তী ঘটনা
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানান। ডামুড্যা থানার পুলিশ শাওন চৌধুরীর বাড়ি থেকে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। পরে মালেক খানের সমর্থকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে শাওন চৌধুরী ও তাঁর এক সমর্থক রাজুর বসতঘরে আগুন দেন। ডামুড্যা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত এসে আগুন নেভান।
ঘটনার পর আহত অবস্থায় ছাত্রলীগ নেতা শাওন চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এলাকা থেকে পালিয়ে গেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে শাওনের সমর্থক রিফাত ব্যাপারীকে আটক করেছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া
শাওন চৌধুরীর ফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁর এক আত্মীয় (চাচা) বলেন, এলাকার একটি বিরোধ নিয়ে মালেক খানদের সঙ্গে শাওনদের পরিবারের বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে আজ মীমাংসা–বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই মালেক খান ও তাঁর সমর্থকেরা শাওনদের বাড়িতে হামলা চালান।
ধানকাঠি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান ব্যাপারী বলেন, ‘ধানকাঠিতে বিএনপির ছয় কর্মী–সমর্থককে কুপিয়ে আহত করেছেন ছাত্রলীগের এক নেতা ও তাঁর সমর্থকেরা। ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা যতটুকু জেনেছি, স্থানীয় বিরোধের জেরে এমন হয়েছে। এলাকার বাইরে থাকায় কোনো পদক্ষেপ নিতে পারিনি।’
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, ওই ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। আঘাত গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। আমরা এলাকা থেকে চলে আসার পরে আহত ব্যক্তিদের সমর্থকেরা দুটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। পরে সেখানে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ওই সময় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকা থেকে পালিয়েছেন।



