জ্বালানি তেলসহ জাতীয় সমস্যা নিয়ে খোলা আলোচনার আহ্বান জানালেন জামায়াত আমির
জ্বালানি তেলসহ জাতীয় সমস্যা নিয়ে খোলা আলোচনার আহ্বান

জ্বালানি তেলসহ জাতীয় সমস্যা নিয়ে খোলা আলোচনার আহ্বান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে জ্বালানি তেলসহ জাতীয় সমস্যা নিয়ে সব পক্ষের সঙ্গে খোলা মনে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই, কিন্তু সরকার উল্টো পথে চলতে চায়। সংবিধান সংস্কার নিয়ে কোনও টালবাহানা চাই না, এটি সংসদেই সমাধান করতে হবে।

স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)’র প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ও রফিকুল ইসলাম খান।

স্বাধীনতার মূল্য ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতা একটি জাতির কত বড় সম্পদ, তা স্বাধীন জাতি অনেক সময় উপলব্ধি করতে পারে না। পূর্বপুরুষদের দূরদর্শিতার কারণে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। পাকিস্তানি শাসক বাহিনী জনরায়কে বুলেট ও বেয়নেট দিয়ে দমন করেছে, মানুষ হত্যা করেছে, নারীর সম্ভ্রম লুণ্ঠন করেছে। তিনি বলেন, একাত্তরের যুদ্ধের পর মানচিত্র পরিবর্তন হলেও ভেতরের পরিবর্তন হয়নি। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্য এখনও রয়ে গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুর্নীতির প্রভাব ও সংবিধান সংস্কার

তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে। কিন্তু আমরা এখনও স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত সুফল ভোগ করতে পারিনি, যার মূল কারণ দুর্নীতি। আমরা ভালো কথা বললে তা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়—মূল ইস্যু আড়াল করতেই এমনটি করা হচ্ছে। সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে সরকার ১৮০ ডিগ্রি অবস্থান পরিবর্তন করেছে এবং এখন নানা অজুহাত দিচ্ছে।

নির্বাচন ও সরকারের নীতির সমালোচনা

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দিক বিবেচনায় আমরা ফলাফল মেনে নিয়েছি। তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান লঙ্ঘন করে সরকার স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। নির্বাচনে পরাজিতদের জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে নির্বাচন আয়োজন করা যেত। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনারা বিরোধী দলের দাবি সহজে মানেন না, পরে ঠিকই মানতে হয়। আমাদের সংস্কার প্রস্তাব কোনও দলের জন্য নয়, জাতির জন্য।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ আহ্বান

তিনি বলেন, বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাহাত্তরের সংবিধান শেখ মুজিবুর রহমানই বাতিল করেছিলেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানও তা বাতিল করেন। খালেদা জিয়া ও এম কে আনোয়ারও সংবিধান পরিবর্তনের কথা বলেছেন। তাহলে এ সংবিধানের প্রতি এত দরদ কেন? সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে হাদি, আবরার ফাহাদ, ফেলানীদের ত্যাগ অবমানিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যান্য বক্তাদের মতামত

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত লড়াইয়ের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। স্বাধীনতার ঘোষণার লক্ষ্য অর্জিত হয়নি বলেই নতুন করে আন্দোলনের প্রয়োজন হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বার্তা আশাব্যঞ্জক নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সভার অন্যান্য অংশগ্রহণকারী

মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, মোবারক হোসেন, অধ্যক্ষ আবদুর রব, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন, ড. মোবারক হোসেন, রাশেদুল ইসলাম এমপি ও হাজী এনায়েত উল্লাহ প্রমুখ।