কুষ্টিয়ায় বোতলের ক্যাপ নিয়ে সংঘর্ষে গুলিবর্ষণ, আগুন: আহত ৭
কুষ্টিয়ায় বোতলের ক্যাপ নিয়ে সংঘর্ষে গুলিবর্ষণ, আহত ৭

কুষ্টিয়ায় বোতলের ক্যাপ নিয়ে সংঘর্ষ: গুলিবর্ষণে আহত ৭, বসতবাড়িতে আগুন

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে একটি বোতলের ক্যাপ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবর্ষণ, আগুন ও ৭ জন আহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। রবিবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত স্থানীয় বের কালুয়া জামে মসজিদ এলাকায় এই সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও আহতদের অবস্থা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি রশিদুল ইসলামের সমর্থক ও আওয়ামী লীগ কর্মী ইয়ারুল শেখের গোষ্ঠীর মধ্যে পদ্মা নদীতে মাছ ধরা, অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি ও এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ বিদ্যমান ছিল। সকালে ইয়ারুলের সমর্থক রতন শেখ একটি কোমল পানীয় পান করার পর বোতলের ক্যাপ ফেলে দিলে তা ক্যাসেট নামে এক ব্যক্তির মাথায় আঘাত করে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা ও মারপিটের ঘটনা ঘটে, যা পরে বড় আকারের সংঘর্ষে রূপ নেয়।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন রাধাগ্রামের মো. রাব্বি (২২), বের কালুয়া গ্রামের আজম শেখ (৫৪), মো. ওবাইদুল্লাহ (৩০), জনি শেখ (২০), শরিফ শেখ (২০), জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) ও মো. শফিউদ্দিন (৬৫)। রাব্বি, জনি, আজম ও শরিফ গুলিবিদ্ধ হয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার হোসেন ইমাম জানান, গুলিবিদ্ধ ৪ জনকে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বুকের গুলিবিদ্ধ রাব্বিকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সহিংসতার বিস্তার ও ফেসবুকে ভিডিও প্রচার

স্থানীয়রা বিষয়টি নিষ্পত্তি করে সবার বাড়ি ফেরানোর পরও বিকেলে ইয়ারুল শেখ, নাসের উদ্দিন ও তাদের সহযোগীরা বের কালুয়া জামে মসজিদ এলাকায় স্থানীয় অস্ত্র ও ফায়ারআর্ম নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে রশিদুল ইসলামের কমপক্ষে ৭ জন সমর্থক গুলিবিদ্ধ হন। রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে হঠাৎ রতন শেখের বাড়িতে আগুন লাগতে দেখা যায়, যা পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণে আনে। বসতবাড়ি ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়, তবে বাড়িতে কেউ ছিল না বলে জানা গেছে।

রবিবার রাতেই ফেসবুতে হামলার কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওগুলোতে ৫০ জনের বেশি মানুষ হেলমেট পরা অবস্থায় কৃষিজমি দিয়ে দৌড়াতে দেখা যায়, যাদের অনেকেই শিল্ড, বর্শা, লাঠি ও ফায়ারআর্ম বহন করছিল। আহত জনি শেখ বলেন, “আমরা ১০-১২ জন মসজিদের পাশের মাঠে গল্প করছিলাম। তখন মৎস্যজীবী কোয়ার্টারের ইয়ারুল শেখ, নাসের উদ্দিন, সোহেল ও কয়েক শত সন্ত্রাসী স্থানীয় অস্ত্র, পিস্তল ও শটগান নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।”

বিবাদী পক্ষের বক্তব্য ও পুলিশের তদন্ত

রশিদুল ইসলামের পক্ষ থেকে আলম শেখ বলেন, রতন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অন্য গ্রাম থেকে দুর্বৃত্ত এনে হামলা চালায় এবং পরে আহত রাব্বির অবস্থা গুরুতর শুনে নিজের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। রশিদুল ইসলাম নিজে জানান, “আওয়ামী লীগ কর্মী ইয়ারুল, যিনি পদ্মা নদীতে পুলিশ হত্যা মামলার মূল আসামি, সোহেল রানা ও সন্ত্রাসী নাসের উদ্দিন আমার লোকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ফলে ৭ জন গুলিবিদ্ধ হন। মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।”

কুমারখালী থানার অফিসার-ইন-চার্জ জামাল উদ্দিন বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, পূর্বশত্রুতার জের ধরে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ দাখিল হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়েছে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।