পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের কঠোর সতর্কতা: জনসেবায় বাধা দিলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আল্লাহ তায়ালা তাকে মানুষের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন এবং তিনি আজীবন জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকতে চান। তবে সেবামূলক কাজে কেউ বাধা দিলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি কঠোর সতর্ক করেছেন।
নগরকান্দায় স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য
সোমবার (২৩ মার্চ) নগরকান্দা উপজেলা সদরের এমএন একাডেমি মাঠে বিএনপির সাবেক মহাসচিব কেএম ওবায়দুর রহমানের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘মানুষের যেখানে সমস্যা, সেখানেই আমি ছুটে গেছি। আপনারা আমাকে নির্বাচনের পরও থামাতে পারেননি। ইনশাআল্লাহ সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে তা সমাধান করব।’
বাবার আদর্শ ও নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান
তিনি তার বাবার মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সতর্ক করেন যে, যারা নিজেদের ওবায়দুর রহমানের সৈনিক দাবি করেন, তারা সত্যিই তার আদর্শ অনুসরণ করছেন কিনা তা নিজেরাই যাচাই করুন। শামা ওবায়েদ আরও বলেন, ‘মঞ্চে উঠে একে অপরের সমালোচনা করা সহজ কিন্তু মানুষের জন্য কাজ করা এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করা কঠিন। বক্তৃতার চেয়ে সংগঠন গোছানো এবং জনগণের পাশে থাকা বেশি জরুরি।’
নগরকান্দা ও সালথার উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি
তিনি জানান, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার উন্নয়নের কাজ দ্রুত শুরু হবে। প্রতিটি ইউনিয়নের রাস্তা, ব্রিজ, মসজিদ ও মন্দিরের প্রয়োজনীয়তার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং শিগগিরই কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। দুর্নীতি ও মাদকবিরোধী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটি মাদকমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সালথা–নগরকান্দা গড়ে তুলতে চাই। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’
নেতৃত্ব ও সংগঠন শক্তিশালীকরণের আহ্বান
শামা ওবায়েদ স্থানীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, ‘নেতৃত্ব চিরস্থায়ী নয়। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে না পারলে অর্জন ধরে রাখা সম্ভব হবে না।’ তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এই সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, কর্মী ও সাধারণ জনতা। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে উন্নয়ন ও সেবার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের উপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



