ঈদের পর নতুন সরকারের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ: জ্বালানি, অর্থনীতি ও রাজনীতি
নতুন সরকারের তিন চ্যালেঞ্জ: জ্বালানি, অর্থনীতি, রাজনীতি

ঈদের পর নতুন সরকারের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ: জ্বালানি, অর্থনীতি ও রাজনীতি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাংলাদেশের কৃষি, শিল্প-কারখানা এবং সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি রেমিট্যান্স প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ক্ষোভও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সব মিলিয়ে, ঈদের পর নানামুখী চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সামনে।

জ্বালানি সংকট: সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা—এই তিনটি বিষয় সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে, গরমের সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ইরানের সঙ্গে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে। বাংলাদেশেও এই পরিস্থিতি জ্বালানি সংকটকে তীব্র করেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, "ঈদের পর অফিস-আদালত এবং শিল্প-কারখানাগুলো পূর্ণ শক্তিতে চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।" এপ্রিল-মে মাসে প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুতের চাহিদা এবং ফসল আবাদে জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও বাজেট চ্যালেঞ্জ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, "জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনই এই মুহূর্তে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকায় সাশ্রয়ী ব্যবহারের মাধ্যমে টিকে থাকতে হবে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি, তবে যুদ্ধ চলতে থাকলে দাম বাড়ানো অপরিহার্য হতে পারে।

সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "জ্বালানি এখনই চড়া দামে কিনতে হচ্ছে, এমন সময়ে যখন রাজস্ব আয়ে বড় ঘাটতি চলছে।" জ্বালানি চাহিদা মেটাতে রিজার্ভ থেকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা লাগতে পারে। সরকার জ্বালানির বিকল্প উৎস অনুসন্ধান, সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং স্পট মার্কেট থেকে সংগ্রহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং বিরোধী দলের দাবি-দাওয়া রাজনৈতিকভাবে সরকারকে চাপে ফেলতে পারে। রাজনীতি বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, "স্থানীয় সরকারে দলীয়করণ জুলাই সনদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।" তবে, ইকবাল হাসান মাহমুদ মনে করেন, "রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সবসময়ই থাকবে, কিন্তু অর্থনীতি ঠিক করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।"

ঈদের পর নতুন সরকারের সামনে আরও চ্যালেঞ্জ হতে পারে সামনের অর্থবছরের বাজেট। নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাজেটে বরাদ্দ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের সম্প্রসারণ, নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা প্রয়োজন। সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে, এবং ঈদের পর এর গতি বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।