জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় ও ভয়ের সংস্কৃতি প্রতিরোধের আহ্বান
শফিকুর রহমানের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় ও ভয়ের সংস্কৃতি প্রতিরোধ

জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় ও ভয়ের সংস্কৃতি প্রতিরোধের আহ্বান

ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, রাজনীতিক ও সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং ভয়ের সংস্কৃতি প্রতিরোধের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন।

কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক ও শুভেচ্ছা বিনিময়

বেলা ১১টায় মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুজান রাইল, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিসতিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানি, ব্রুনেইয়ের রাষ্ট্রদূত হারিস বিন হাজি ওসমান, ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কর্মা হামু দর্জি, শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ধর্মপাল উইরাক্কোডি, নেপালের রাষ্ট্রদূত জ্ঞানশ্যাম ভান্ডারি, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস। এছাড়া ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলারসহ ইউনিসেফ ও ইউএন ওমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও শুভেচ্ছা জানান।

ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের মানুষের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে। বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে সেই সম্পর্ককে আমরা আরও এগিয়ে নিয়ে যাব।’ এই বৈঠকে শফিকুর রহমান বিশ্বে সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা প্রচারের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভয়ের সংস্কৃতি প্রতিরোধ ও শান্তির আহ্বান

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শফিকুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘ভয়ের সংস্কৃতি বাংলাদেশে আবার ফিরে আসুক, এটা কেউ চায় না, আমরা চাই না। কেউ যদি সেই সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চান, তিনি যে–ই হোন—আমরা ইনশা আল্লাহ সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াব, ইনশা আল্লাহ। আমরা এই ভয়ের সংস্কৃতি আর বাংলাদেশে আনতে দেব না।’ তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা জানি, অনেক দেশ; আমাদের বন্ধু এবং ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ তারা ক্ষতবিক্ষত, তাদের জন্য আমাদের কষ্ট লাগে। আমরা যখন এই ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করছি, তখন তারা তাদের জীবন নিয়ে শঙ্কিত।’

শফিকুর রহমান একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে বলেন, ‘যেই বিশ্বে হিংসা-হানাহানি থাকবে না, যুদ্ধ-বিগ্রহ হয়ে আর মানুষের জীবন নিয়ে কেউ খেলায় মেতে উঠবে না, আগুনের গোলা আর উড়বে না—আমরা সেই রকম একটা বিশ্ব আমরা দেখতে চাই।’

নিজ দল ও অন্যান্য রাজনীতিকদের উপস্থিতি

বেলা সাড়ে তিনটায় শফিকুর রহমান নিজ দলের নেতা-কর্মী, বিভিন্ন দলের রাজনীতিক ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, আবদুল মান্নান ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ।

অতিথিদের মধ্যে ছিলেন মেজর আখতারুজ্জামান, দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ, গণ অধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।

ঈদের নামাজ ও শুভেচ্ছা বিনিময়

এর আগে সকাল ৮টায় শফিকুর রহমান নিজের সংসদীয় আসনের ঢাকার মিরপুরের ৬০ ফিট রাস্তা–সংলগ্ন মনিপুর গার্লস হাইস্কুল মাঠে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে তিনি সেখানে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, যা সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

এই অনুষ্ঠানগুলোতে শফিকুর রহমানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে ঈদের উৎসবকে কেন্দ্র করে সম্প্রীতি ও সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরে, পাশাপাশি ভয়ের সংস্কৃতি প্রতিরোধে তাঁর দৃঢ় অবস্থান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার সূত্রপাত করে।