প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার দিনাজপুর থেকে ৫৩টি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার ৫৩টি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার দিনাজপুর থেকে ৫৩টি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে দেশব্যাপী ৫৩টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী রবিবার সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথ ও কর্মসূচির বিস্তারিত

প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল সকালে রাজধানী থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে সড়কপথে তিনি দিনাজপুরের দিকে রওনা হবেন। দিনাজপুরে পৌঁছে কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়ায় ১২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের মাধ্যমে একযোগে দেশব্যাপী ৫৩টি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। পরে সেখানে সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।

নীলফামারীর সৈয়দপুরের রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গফুর সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রী সোমবার সকাল ৯টায় বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন এবং দিনাজপুরের দিকে রওনা হবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর গোরস্তানে যাবেন। সেখানে তিনি তার নানা প্রয়াত মো. ইস্কান্দার মজুমদার, নানি প্রয়াত তৈয়বা মজুমদার এবং খালা খুরশীদ জাহান হকসহ নিকট আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর স্থানীয় সুধীজন ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেবেন।

খাল খনন কর্মসূচির পটভূমি ও উদ্দেশ্য

বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে খনন করা অনেক খাল এখন ভরাট অবস্থায় রয়েছে। এসব খাল পুনঃখননের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, মাছ চাষ, হাঁস পালনসহ খালনির্ভর অর্থনীতি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার দুপুরে সাহাপাড়া-বলরামপুর খাল পরিদর্শন শেষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, সাহাপাড়ার প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খননের ফলে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। এতে অতিরিক্ত বন্যা থেকে সুরক্ষা মিলবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের সুবিধা পাওয়া যাবে।

কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বিএডিসির সমন্বয়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, শুধু খনন নয়, খালের পাড় রক্ষা, বাঁধ নির্মাণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও নেওয়া হবে। খালের পানি বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে কৃষি উৎপাদন বাড়ে এবং স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়।

প্রধানমন্ত্রী শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইমাম, মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেওয়ার কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে শুরু হচ্ছে খাল খনন কর্মসূচি।’ এই উদ্যোগ দেশের কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।