লালমোহনে স্বাধীনতা দিবস প্রস্তুতি সভায় জামায়াতকে আমন্ত্রণ না করায় অসন্তোষ
লালমোহনে স্বাধীনতা দিবস সভায় জামায়াত আমন্ত্রণ না করায় অসন্তোষ

লালমোহনে স্বাধীনতা দিবস প্রস্তুতি সভায় জামায়াতকে আমন্ত্রণ না করায় অসন্তোষ

ভোলার লালমোহন উপজেলায় মহান স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি সভায় জামায়াতে ইসলামীকে আমন্ত্রণ না করায় প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উপজেলা জামায়াত নেতারা এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

প্রস্তুতি সভায় বাদ পড়ার অভিযোগ

জানা যায়, গত ১২ মার্চ লালমোহন উপজেলা পরিষদ হলরুমে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে একটি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

জামায়াত নেতাদের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে জামায়াত নেতারা বলছেন, তারা বর্তমানে বিরোধী দল হলেও একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয় দিবসের প্রস্তুতি সভায় তাদের আমন্ত্রণ জানানো উচিত ছিল। তাদেরকে আমন্ত্রণ না জানানোয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল হক বলেন, "এর আগেও একুশে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচির সময় আমাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। পরে বিষয়টি ভুলবশত হয়েছে বলে অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু এবারও ২৬ মার্চের প্রস্তুতি সভায় একই ঘটনা ঘটায় এটি শুধুই ভুল নাকি ইচ্ছাকৃত—সে প্রশ্ন উঠেছে।"

তিনি আরও যোগ করেন, "একটি জাতীয় দিবস উদযাপনের ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করা উচিত। এতে জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় থাকে। কিন্তু বারবার একটি দলকে বাদ দেওয়া হলে তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন দেখা দেয়।"

উপজেলা প্রশাসনের ব্যাখ্যা

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহ আজিজ জানান, আমন্ত্রণের জন্য তালিকায় জামায়াতের নাম ছিল। তিনি বলেন, "হয়তো যারা চিঠি বিতরণ করেছে তাদের কোনো ভুল হতে পারে। আমরা সকল দলকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছি।"

এই ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, জাতীয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে সকল রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।