জামায়াত এমপির ইফতারে মাদককারবারি যুবলীগ নেতা, রাজশাহীতে সমালোচনার ঝড়
জামায়াত ইফতারে মাদককারবারি, সমালোচনার ঝড়

জামায়াত এমপির ইফতারে মাদককারবারি যুবলীগ নেতার উপস্থিতি, রাজশাহীতে সমালোচনার ঝড়

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে কুখ্যাত মাদককারবারি ও যুবলীগ নেতা সেতাবুর রহমান বাবুর উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা ও তোলপাড় শুরু হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) মাটিকাটা আদর্শ কলেজ মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

মঞ্চে এমপির পাশে মাদককারবারির বসা

মঞ্চে ঠিক এমপি মুজিবুর রহমানের পেছনের সারিতেই আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বসে ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী সেতাবুর রহমান বাবু। তার এই উপস্থিতির ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়েছে, যা জামায়াতের নীতি-নৈতিকতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলে ধরেছে।

বাবুর অপরাধমূলক ইতিহাস ও রাজনৈতিক সংযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেতাবুর রহমান বাবুর বাড়ি মাটিকাটা ইউনিয়নের রেলগেট এলাকায়। তিনি একসময় পাওয়ার টিলারের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন, পরে হেরোইনের কারবারে জড়িয়ে বিপুল অর্থবিত্তের মালিকে পরিণত হন। ২০১৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-২ এর মাদক কারবারিদের তালিকায় তার নাম নবম স্থানে উল্লেখ করা হয়েছিল।

বাবুর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে:

  • তিনি ২০২৩ সালে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন, যার কারণে তাকে ইউপি সদস্যের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়।
  • জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তার নামে হত্যাসহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে, এবং তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।
  • ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন মাটিকাটা এলাকায় ভোট কেন্দ্র দখলে নিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার নেতৃত্ব দেন, যাতে এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম নিহত হন।
  • আওয়ামী লীগের আমলে জিয়া পরিষদের কার্যালয় দখলের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও অভিযোগ

নিহত নজরুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম অরণ্য কুসুম অভিযোগ করেন, "আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের দুঃশাসনের সময় বাবু এলাকায় অনেক অত্যাচার করেছেন। জামায়াতের এই ইফতার মাহফিল আয়োজনের পুরো টাকাটাই দিয়েছে মাদককারবারি বাবু।" তিনি আরও বলেন, "জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ঢাকায় গিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন, আর এলাকায় এসে মাদককারবারিদের পুনর্বাসন করছেন।"

জামায়াতের ব্যাখ্যা ও পুলিশের বক্তব্য

জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. কামরুজ্জামান বাবুর উপস্থিতি সম্পর্কে বলেন, "বাবু কিভাবে মঞ্চে এলেন- সেটি বলতে পারব না। তাকে কেউ দাওয়াত দেয়নি। তিনি বাঁচার জন্য হয়ত এখানে এসেছেন। আমাদের কর্মীরাই টাকার সংস্থান করেছেন।" তিনি আরও দাবি করেন যে বিএনপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছে।

অন্যদিকে, গোদাগাড়ী থানার ওসি হাসান বশির বলেন, "সেতাবুর রহমান বাবুর নামে কোনো মামলা বা গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে কিনা, সেটি না দেখে বলতে পারব না। পরোয়ানা থাকলে অবশ্যই গ্রেফতার করা হবে। মাদককারবারি হলে কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিলেও তার ছাড় নেই।"

উপসংহার

এই ঘটনা রাজশাহীর স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে, যেখানে একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠানে কুখ্যাত মাদককারবারির উপস্থিতি দলের ভাবমূর্তি ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি করেছে। এলাকার সচেতন নাগরিকরা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।