ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে দলীয়করণ হবে না: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী
ফ্যামিলি কার্ডে দলীয়করণ হবে না: প্রতিমন্ত্রী

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে দলীয়করণ হবে না: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দলীয়করণ বা দুর্নীতির সুযোগ নেই। তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রদত্ত আর্থিক সহায়তা সরাসরি নারী প্রধানদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ওয়ালেটে জমা হবে, যা দুর্নীতি রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন

মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌর শহরের জগন্নাথপুর আধুনিক অডিটোরিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা তুলে ধরেন। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পৌর শহরের ৮নং ওয়ার্ডের ৮৬ জন নারীর হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হয়।

প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড হবে সম্পূর্ণ সার্বজনীন এবং আগামী বাজেট থেকে ধীরে ধীরে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার প্রান্তিক ও আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলোকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা জনগণের স্বার্থে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

আর্থিক সহায়তার বিস্তারিত

ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় থাকা প্রতিটি পরিবার মাসিক ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পাবে। এই অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীদের অ্যাকাউন্টে জমা হবে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় ও কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে, যাতে কোনো প্রকার অনিয়মের সম্ভাবনা না থাকে।

রাজনৈতিক প্রসঙ্গ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে বলেন, কিছু দল নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কলুষিত করার চেষ্টা করছে, যা তিনি রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ম হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করতে জনগণের স্বার্থভিত্তিক কাজই একমাত্র পথ।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের ১৪টি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ, পুলিশ সুপার ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।