স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের 'দ্বিতীয় লড়াই', সিটি করপোরেশনকে প্রাধান্য
স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতের দ্বিতীয় লড়াই, সিটি করপোরেশন লক্ষ্য

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের 'দ্বিতীয় লড়াই' শুরু

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নজর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে। দলটি এটিকে 'দ্বিতীয় লড়াই' হিসেবে বিবেচনা করছে এবং জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি চালাচ্ছে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোর প্রস্তুতি

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের উপর। দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজন বাধ্যতামূলক। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়াদ ২০২৫ সালের জুনের প্রথম সপ্তাহে শেষ হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা ও জামায়াতের প্রস্তুতি

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের পর থেকে সারা বছর ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই পরিকল্পনা সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীও প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে 'দ্বিতীয় লড়াই' বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, 'এখন আমাদের দ্বিতীয় লড়াই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। এই লড়াইয়ে একটা জায়গাও যেন এবার খালি না থাকে।'

প্রার্থী বাছাই ও সংগঠনিক কাঠামো

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি গুরুত্ব পেয়েছে। দলটি তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই এবং স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য মুখ খোঁজার ওপর জোর দিচ্ছে। জামায়াতের ১৪টি অঞ্চলের পরিচালকরা জেলা ও উপজেলার আমির, সেক্রেটারিসহ দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বসে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন। কিছু জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে ইতিমধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে, বাকিগুলোর কাজ চলছে।

জোট ও প্রতীক নিয়ে অনিশ্চয়তা

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, 'স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটবদ্ধ প্রার্থী দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জোট থাকবে, তবে নির্বাচনে প্রার্থী আলাদা থাকবে।' এছাড়া, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে কি না তা জাতীয় সংসদে চূড়ান্ত হবে। জামায়াতের নেতারা মনে করেন, আলাদা প্রতীকেই স্থানীয় নির্বাচন হওয়া উচিত।

রাজনৈতিক পটভূমি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়েছিল। বিএনপি ক্ষমতায় এসে ছয় সিটিতে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। জামায়াতের একটি সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে না পারা নেতারা স্থানীয় নির্বাচনে অগ্রাধিকার পেতে পারেন। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেছেন, 'স্থানীয় নির্বাচনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত, তবে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি।'