ফরিদপুর-৪ আসনের সীমানা আন্দোলনে গ্রেপ্তার আ.লীগ নেতা ১৭৫ দিন পর জামিনে মুক্তি পেলেন
ফরিদপুর-৪ আসন আন্দোলনে গ্রেপ্তার নেতা ১৭৫ দিন পর জামিনে মুক্তি

ফরিদপুর-৪ আসনের সীমানা আন্দোলনে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতার দীর্ঘ ১৭৫ দিন পর জামিনে মুক্তি

ফরিদপুর-৪ আসনের সীমানা জটিলতা নিয়ে আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ম ম সিদ্দিক মিঞা (৫৭) দীর্ঘ ১৭৫ দিন কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুর জেলা কারাগার থেকে তার মুক্তি কার্যকর হয়। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর ফরিদপুর জেলা কারাগারের ফটকে তাকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ওই আসনের বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।

আন্দোলনের পটভূমি ও গ্রেপ্তারের ঘটনা

সিদ্দিক মিঞা ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জানা যায়, ফরিদপুর-৪ আসন থেকে ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে কেটে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন তিনি। গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিলে স্থানীয়রা কয়েক দফায় ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে।

এই আন্দোলনের জের ধরে গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সিদ্দিক মিঞাকে আটক করে। পরে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে উচ্চ আদালতের রায়ে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন আবারও ফরিদপুর-৪ আসনের সঙ্গে যুক্ত হয়, যার ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই এলাকার ভোটাররা ফরিদপুর-৪ আসনেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

মুক্তির পর প্রতিক্রিয়া ও আইনি প্রক্রিয়া

মুক্তির পর সিদ্দিক মিঞা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তার মুক্তির জন্য নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আইনি সহায়তার মাধ্যমে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

বাবুল বলেন, "সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই সিদ্দিক মিঞার মুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের মুক্তির জন্যও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।" এই ঘটনাটি রাজনৈতিক সংহতি ও আইনি সহায়তার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দলের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরে।

ফরিদপুর জেলার স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এই মুক্তি রাজনৈতিক বন্দীদের বিষয়ে একটি ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ আন্দোলন বা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইনি পথের গুরুত্বকে আরও জোরালো করে তুলছে।