জামায়াত নেতার তীব্র প্রশ্ন: গণভোট বাতিলের দাবি হলে জাতীয় নির্বাচন কেন বাদ যাবে না?
যারা গণভোট বাতিলের কথা বলছেন, তারা কেন জাতীয় নির্বাচন বাতিলের দাবি তুলছেন না—এমন প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য ব্যারিস্টার শিশির মনির। তিনি সোমবার রাতে মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যদি বাতিল হতে হয়, তাহলে শুধু গণভোট নয়, জাতীয় নির্বাচনও বাতিল হওয়া উচিত। এছাড়া, মাঝখানে জারি হওয়া ১৩৫টি অধ্যাদেশও বাদ দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গণভোট বাতিল হলে কী হবে?
শিশির মনির স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, গণভোট বাতিল হলে জাতীয় নির্বাচনসহ ৫ আগস্টের পরের সব সিদ্ধান্ত বাদ দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি আদালতের সিদ্ধান্ত নয়; বরং সংসদে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তার মতে, আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে কোনো সিদ্ধান্ত হলে সেটি রাজনৈতিক বুমেরাং হিসেবে দেখা দেবে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
হাইকোর্টে রিট ও জামায়াতের অবস্থান
উল্লেখ্য, সদ্য অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং গণভোটের ফল বাতিলের জন্য হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ এই রিট দায়ের করেছেন। শিশির মনির এই রিটের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই রিটের পক্ষে রায় হওয়ার প্রশ্ন এখনও আসেনি। আগামীকাল মঙ্গলবার আদালত একটি আদেশ দেবে, অর্থাৎ তারা রুল জারি করবে কি না, তা নির্ধারণ করবে। এছাড়া, অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে কি না, সেটিও দেখার বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের ইন্ধনের অভিযোগ
শিশির মনির আরও বলেন, আর মাত্র ১০ দিন পরেই সংসদ বসবে, এবং এই মুহূর্তে এসে গণভোট নিয়ে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে সরকারের ইন্ধনে—এমন অভিযোগ তিনি তোলেন। তার মতে, এটি একটি রাজনৈতিক কৌশল, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
জামায়াতের অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জুলাই সনদ আদালতের কাঁধে রেখে উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা সমীচিন হবে না। তিনি সতর্ক করে দেন, এটি হলে দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে, যা জনগণের আস্থা হ্রাস করতে পারে। জামায়াতের নেতারা একযোগে এই ইস্যুতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামগ্রিকভাবে, শিশির মনিরের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে, যেখানে গণভোট ও নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জামায়াতের এই অবস্থান আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক আলোচনাকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
