এনসিপি মুখপাত্রের দাবি: জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে
বাংলাদেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃত্বে প্রকৃত অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে বর্তমান সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বিএনপির 'ডুয়েল গেম' বা দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নে জোর দাবি জানিয়েছেন।
বিএনপির 'ডুয়েল গেম' ও সংবিধান সংস্কারের আহ্বান
আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, 'বিএনপি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জুলাই সনদকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আদালতে গিয়েছে। তারা একধরনের ডুয়েল গেম খেলছে।' তিনি বিএনপির সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার জরুরি আহ্বান জানান।
গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বর্তমান সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক হয়েছে উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, 'মাননীয় আদালতে একে চ্যালেঞ্জ করার মধ্য দিয়ে বিএনপি নিজের সরকারকেই চ্যালেঞ্জ করল বলে আমরা মনে করছি। কারণ এই একই সনদের ভিত্তিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।'
খালেদা জিয়ার উক্তি ও বর্তমান বাস্তবতা
এনসিপি নেতা খালেদা জিয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, 'খালেদা জিয়া একবার বলেছিলেন জনগণের সরকার গঠিত হলে এই সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে। তাঁর দল সরকার গঠন করেছে এবং তাঁর ছেলে আজকে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু তাঁরা এই সংবিধান ছুড়ে ফেলার সাহস করতে পারছেন না, বরং এই সংবিধানকে রক্ষা করছেন। খালেদা জিয়ার কথা অনুযায়ী বাংলাদেশ এখনো জনগণের সরকার পায়নি।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ না নিলে যে আদেশের ভিত্তিতে এই নির্বাচন হয়েছে, সেই আদেশের লঙ্ঘন হয়। এর মধ্য দিয়ে একটা বড় আইনি জটিলতা তৈরি হয়। আমরা আগামীর বাংলাদেশের একটা সুষ্ঠু ও নিষ্কণ্টক গণতান্ত্রিক যাত্রা চাই। সে ক্ষেত্রে সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে।'
প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি অভিশংসনের দাবি
১২ মার্চ নবগঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে। এই সংসদের পবিত্রতা রক্ষায় প্রথম অধিবেশনেই বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন করার প্রক্রিয়া শুরুর দাবি জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, 'কোনোভাবেই এই সংসদ রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে না। যদি এটা হয়, আমরা জনগণের পক্ষ থেকে ৩০০ (২৯৯) জন সংসদ সদস্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করব এবং ৩০০ জনকেই এর জবাব দিতে হবে।'
রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, 'বিভিন্ন কারণ ও অজুহাত দেখিয়ে, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার কথা বলে শেখ হাসিনার উচ্ছিষ্ট রাষ্ট্রপতিকে বিগত সময়ে রেখে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, তাঁকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে রক্ষা করা হয়েছে। হাসিনার পায়ের ধুলা পাওয়া ব্যক্তিকে এখন বিএনপি সরকার তাদের রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে যদি রাখে এবং সংসদ সদস্যরা যদি এর প্রতিবাদ না করে, এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক হবে।'
এনসিপির অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়নবিষয়ক কমিটির উপপ্রধান সারোয়ার তুষার বলেন, 'বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একসঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত এসেছিল। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে অবৈধ দেখানোর চেষ্টা যদি কারও থাকে, এটা প্রকারান্তরে এই নির্বাচনের বৈধতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে।'
কালক্ষেপণ বা ছলচাতুরি না করে অবিলম্বে প্রথম অধিবেশনেই সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে সারোয়ার তুষার আরও বলেন, 'বিএনপির কাছে অন্য কোনো অপশন নেই।'
সংস্কার বাস্তবায়নবিষয়ক কমিটির সদস্য জহিরুল ইসলাম মূসাও সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহউদ্দিন সিফাত, ফরিদুল হক প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
