জুলাই গণহত্যার বিচার দাবি করে জামায়াতের তীব্র প্রতিবাদ, আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিনে উদ্বেগ
জুলাই গণহত্যার বিচার দাবি, জামায়াতের প্রতিবাদ

জুলাই গণহত্যার বিচার দাবিতে জামায়াতের তীব্র প্রতিবাদ

জুলাই গণহত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন ও দলের অফিস খুলে দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল।

জামিন ও অফিস খোলার ঘটনায় উদ্বেগ

মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, সেই গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের একের পর এক জামিন দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুনরায় খুলে দেওয়া হচ্ছে। দেশবাসীর আশঙ্কা, এসব অফিসে বসে তারা পুনরায় দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে।

এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রতি ক্ষমতাসীনদের এহেন আচরণে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

জামিনপ্রাপ্ত নেতাদের উদাহরণ

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে প্রকাশ্যে সক্রিয় ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। তাঁকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়েছে। একই দিনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আবদুর রহমান বদিকে জামিন দেওয়া হয়েছে।

বিচার ও আইনের দাবি

অবিলম্বে জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। তা না হলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা জামিনে মুক্ত হয়ে আবার সহিংসতায় জড়িয়ে পড়তে পারে, যার দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে বলেন তিনি।

জামিনে মুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে লুটপাট ও সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

হুঁশিয়ারি ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আওয়ামী লীগের যেসব কার্যালয় খুলে দেওয়া হয়েছে, তার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ নেওয়ার দাবি জানান। তা না হলে ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।

এই প্রতিবাদ ও দাবিগুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। জুলাই গণহত্যার বিচার ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান বিতর্ক দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।