দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি নেতা আহমেদুর রহমান তনুকে সাময়িক অব্যাহতি
এনসিপি নেতা তনুকে দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি নেতা আহমেদুর রহমান তনুকে সাময়িক অব্যাহতি

জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য আহমেদুর রহমান তনুকে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। বুধবার রাতে এনসিপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের যৌথ নির্দেশক্রমে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারণ দর্শানোর নোটিশ ও কঠোর পদক্ষেপের হুমকি

একই সঙ্গে কেন তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। আহমেদুর রহমান তনুকে দেওয়া ওই নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে দলের সকল দায়িত্ব থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান বরাবর তাকে এই বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারসহ আরও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দলের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার অঙ্গীকার

জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব দলের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস না করার নীতি গ্রহণ করেছে। দলের শৃঙ্খলা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান সব সময় কঠোর থাকবে। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার প্রক্রিয়ার মধ্যেই আহমেদুর রহমান তনুর এই অব্যাহতি দলটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির সময়ে এই সিদ্ধান্ত

সম্প্রতি এনসিপির অন্যতম নেতা সারজিস আলম জানিয়েছেন যে, দলটি এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একজন নেতার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এনসিপির ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়েছে যে, দলের সংহতি ও সংকল্প অক্ষুণ্ণ রাখতেই এই সিদ্ধান্ত অনিবার্য ছিল। এখন দেখার বিষয়, আগামী তিন দিনের মধ্যে আহমেদুর রহমান তনু কী ধরনের ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং দলীয় শৃঙ্খলা কমিটি তার বিষয়ে পরবর্তী কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।