জামায়াতকে ভোট দিলে স্ত্রীদের তালাক দেওয়ার পরামর্শ বিএনপি সংসদ সদস্যের
কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া দলীয় নেতাকর্মীদের স্ত্রীদের জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ায় তালাক দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) লালমাই উপজেলা বিএনপি আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এমন বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
ভিডিও ছড়িয়ে ব্যাপক সমালোচনা
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে বলতে শোনা যায়, ‘কিছু কিছু মুনাফিকের কাছেও আমি ঋণী আছি। এরা কিন্তু আমার দলের বড় বড় নেতা। এরা জামায়াতকে অর্থ দিয়েছে। নিজের বউ জামায়াতরে ভোট দিছে। এখন ইয়ানে ইফতার খাইতে আইছে। মাইত্তি হারস না? তুই বেডি ইগার লগে ঘর করস কেমনে? কয়, আই কিত্তাম হিতি কতা দিয়ালাইছে। হিতিরে তালাক দিই দে।’
বিস্তারিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ
তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘যে জামাইকে সম্মান করে না, সে পরিবারকে সম্মান করে না। আমি আগে কইছি না, নফল ইবাদত করতে অইলেও মহিলাদের জামাইয়ের অনুমতি নিতে অয়। আর তুমি ভোট দিয়ালাইছ হাঁশসো টেয়ার বিনিময়ে। আমগো নেতারা জামায়াতরে ভোট দিয়ে ফেলছে হাঁশসো টেয়ার বিনিময়ে। আর আমার কাছে হেতে গো এসিআর আই গেছে। আমার কাছে আছে। দক্ষিণ-উত্তর-পূর্ব-পশ্চিম সব আমি জানি। হেইতারা কি করে জানেননি? ঢাকা জায়গই, যাই আর লগে সেলফি তোলে। পাপের প্রায়শ্চিত্ত বলে সেলফি দি অই যইব। আই এন্নে ধরি। কিয়ারে চিটিং তুই ভোটের দিন কোনাই আছিলি।’
সংসদ সদস্যের ব্যাখ্যা
এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার বক্তব্য ক্লিয়ার। নেতাকর্মীদের যেমন শাসন করি, তাদের ভালোও বাসি। তাদেরকে সতর্ক করার জন্য এসব কথা বলেছি। তালাকের কথা আমি বললেই হয়ে যায় না। এটা কথার কথা। তারা পরিবারের শাসনে ছিল না। তাই পরিবারের কর্তা হিসেবে আমি তাদের সতর্ক করেছি।’
প্রেক্ষাপট ও নির্বাচনী ফলাফল
প্রসঙ্গত, কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৬৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৩৩ ভোট পান। এই বিজয় তাকে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি শক্ত অবস্থান দিয়েছে, কিন্তু সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা তার ভাবমূর্তিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
