জামায়াত আমিরের বক্তব্য: 'পুলিশের কাজ দমন নয়, জনগণের সুরক্ষা'
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "রাষ্ট্রীয় শক্তি নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে না। জনগণের টাকায় বেতন পাওয়া পুলিশের কাজ জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, দমন করা নয়।" মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা প্রকাশ করেন।
দীর্ঘ দুঃসময় ও পুলিশের ভূমিকা
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "২০০৯-২০২৪ ছিলো দীর্ঘ এক দুঃসময়। এ সময়ে কিছু অসৎ ও দলদাস পুলিশ কর্মকর্তা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে টিকিয়ে রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলো।" তিনি বলেন, এর পরিণতি ২০২৪ সালে দেখা গেছে, যেখানে পুলিশ বিরোধী ক্ষোভ এবং পুরো বাহিনীর নৈতিক ভিত্তি ভেঙে পড়ার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।
হামলার ঘটনা ও প্রতিবাদ
তিনি আরও বলেন, "এই বাস্তবতায় গতকাল নিরীহ ছাত্র, সাংবাদিক ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর অতিউৎসাহী পুলিশের হামলা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি পুরনো দমন-পীড়নের সংস্কৃতিরই প্রতিধ্বনি।" ডা. শফিকুর রহমান এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং এটিকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন।
আইনগত প্রতিরোধ ও নতুন সংস্কৃতির আহ্বান
জামায়াত আমির তার বক্তব্যে সতর্ক করে বলেন, "যারা পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করবে বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ও গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, পুলিশ হতে হবে জনবান্ধব এবং আইনের শাসন মানে শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আমরা একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখতে চাই, যেখানে পুলিশ সত্যিকার অর্থে জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে এবং রাষ্ট্রীয় শক্তি নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে।" তার এই বক্তব্যে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পুলিশ সংস্কার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে।
