কুষ্টিয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বিতর্কিত বক্তব্য: 'আন্দোলনকারীরাই হাট-ঘাট খাবে'
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। যদুবয়রা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. রিপন হোসেন সোমবার রাতে এক সংক্ষিপ্ত সভায় দাবি করেছেন, 'যারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে তাড়িয়েছে, তারাই সকল হাট-ঘাট খাবে।' তাঁর এই মন্তব্য ফেসবুকে ভিডিও আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তব্যের মূল বক্তব্য
চৌরঙ্গী বাজারের চৌরাস্তা মোড়ে নিজের অনুসারীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে রিপন হোসেন বলেন, 'আপনি খাবেন না। কারণ, আপনি কোনো জায়গায় যাননি। কেউ যদি টাকার গরমে বাজার ডেকেও (ইজারা) আনেন, ওই বাজারে ঢুকলে পিঠের চামড়া তুলে দেওয়া হবে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আন্দোলনকারী ছাত্র-যুবসমাজ অনেক দিন না খেয়ে পথে ঘুরে বেড়িয়েছে, কিন্তু ব্যবসায়ীরা তখন সাহায্য করেনি।
প্রতিক্রিয়া ও ব্যাখ্যা
বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে রিপন হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, 'চৌরঙ্গী সাপ্তাহিক পেঁয়াজ হাটের ইজারার দরপত্র আহ্বান করেছে প্রশাসন। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী টাকার গরমে ৫ লাখ টাকার হাট ১০ লাখ টাকা দিয়ে ইজারা নিতে চাচ্ছে। এতে ছাত্র-যুবসমাজ ইজারা নিতে পারবে না। ওই সব ব্যবসায়ীদের সতর্ক করার জন্য ওই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।' তিনি দাবি করেন যে, এখানে অন্যায় কিছু করা হয়নি এবং এটি একটি সতর্কবার্তা মাত্র।
অন্যদিকে, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবদুল হাকিম (মাসুদ) প্রথম আলোকে বলেন, 'বিএনপি গণতন্ত্রবাদী দল। কেউ যদি টেন্ডারে হাট-ঘাটের ইজারা পান, তাহলে তাঁরা সেটা ভোগ করবেন। তিনি যে দলের লোকই হোন, এটা তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার।' তিনি আরও যোগ করেন যে, রিপনের বক্তব্য তিনি এখনো শোনেননি এবং এটি ব্যক্তিগত মতামত, যা বিএনপি সমর্থন করে না।
স্থানীয় প্রভাব
এই ঘটনায় কুমারখালী উপজেলায় রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এমন বক্তব্য সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারে এবং হাট-বাজারের ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি করতে পারে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, তারা বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।
সামগ্রিকভাবে, রিপন হোসেনের বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে, যা আগামী দিনে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
