বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, বহুদলীয় গণতন্ত্রে আস্থা রাখে: ড. মঈন খান
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না এবং দলটি বহুদলীয় গণতন্ত্রে আস্থাশীল। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত এবং শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা প্রসঙ্গে বিএনপির অবস্থান
এ সময় একজন সাংবাদিক আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা নিয়ে বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে ড. মঈন খান জবাব দেন। তিনি বলেন, “আমাদের দলীয় অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। বিএনপি স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করছে। ১৯৭১ সালের সেই কালো রাতে পাক হানাদার বাহিনী হায়েনার মতো এ দেশের নিরীহ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সেদিন প্রতিবাদের ঝান্ডা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। আমরা সেই আদর্শে বিশ্বাসী। বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আমরা সেই বিশ্বাসে বিশ্বাসী হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো।”
বাকশালের ধারণা নিয়ে বিএনপির অবস্থান
তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশের ওপর পাথরের মতো আওয়ামী লীগ বাকশাল চাপিয়ে দিয়েছিল। সেই ধারণায় বিএনপি বিশ্বাস করে না। বিএনপির জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করে।” ড. মঈন খান উল্লেখ করেন যে, বিএনপি একটি উদার রাজনৈতিক দল হিসেবে সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করে এবং প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, “এটা আমাদের নেতা তারেক রহমান বারবার বলেছেন।”
গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবি
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য দাবি করেন, “বাংলাদেশের গণতন্ত্র আমরা বারবার ফিরিয়ে এনেছি। আমরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে ছাত্র-জনতার বিপ্লব হয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি। এ গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা আমরা রক্ষা করবো।” তার মতে, বিএনপি জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস রেখে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ড. মঈন খানের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করেছে, যেখানে তিনি বিএনপির আদর্শিক ভিত্তি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি দলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
