পটুয়াখালীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ, উত্তেজনা ছড়িয়েছে
পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলায় চাঁদা দাবির অভিযোগ নিয়ে তীব্র উত্তেজনা ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী নির্মল দাস মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুজন সিকদারের বিরুদ্ধে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটান।
ব্যবসায়ীর অভিযোগ: দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি ও মারধর
নির্মল দাস সোমবার দুপুর ১২টায় মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত বিবরণ দেন। তিনি জানান, সুজন সিকদার দীর্ঘদিন ধরে তার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পশ্চিম সুবিদখালী থেকে সুবিদখালী বন্দরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সময় আবারও চাঁদা দাবি করা হলে, তিনি তা দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করেন।
নির্মল দাসের অভিযোগ অনুযায়ী, এই ঘটনার পর সুজন সিকদারসহ ৭-৮ জন ব্যক্তি তাকে মারধর করে আহত করেন এবং কাউকে না জানানোর জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ বিষয়ে তিনি রবিবার রাত ১১টায় মির্জাগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে প্রধান আসামী হিসেবে সুজন সিকদার ও অন্য ৭-৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপি নেতার জবাব: অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন
অভিযোগের বিরুদ্ধে সুজন সিকদার দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি এই ঘটনাকে একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং নিজের নির্দোষতা জোর দিয়ে দাবি করেছেন।
এ ঘটনার পর, স্থানীয় জনগণ বিএনপি নেতার পক্ষে সক্রিয় হয়ে ওঠে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উপজেলা সদর সুবিদখালী বাজার সংলগ্ন বরিশাল-বাকেরগঞ্জ-সুবিদখালী-বরগুনা মহাসড়কে “মির্জাগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ” ব্যানারে একটি বড় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপি নেতৃত্বের বক্তব্য ও পুলিশের তদন্ত
মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো. সাহাবুদ্দিন নান্নু মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যায়কারী কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সহায়তার সুযোগ নেই। ওসি সাহেবকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি।”
অন্যদিকে, মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুস ছালাম জানান, “ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগে নির্মল দাস নামে এক ব্যক্তি থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।” পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারা উভয় পক্ষের বক্তব্য সংগ্রহ করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং অনেকেই ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছেন।
