জামালপুরের বকশীগঞ্জে আওয়ামী লীগ অফিস থেকে পাবলিক টয়লেট সাইনবোর্ড উধাও
বকশীগঞ্জে আ.লীগ অফিসে পাবলিক টয়লেট সাইনবোর্ড উধাও

জামালপুরের বকশীগঞ্জে আওয়ামী লীগ অফিস থেকে পাবলিক টয়লেট সাইনবোর্ড উধাও

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অফিস থেকে পাবলিক টয়লেট লেখা সাইনবোর্ড উধাও হয়ে গেছে। বকশীগঞ্জ উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের লাগানো পাবলিক টয়লেটের সাইনবোর্ডটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে, তবে কে বা কারা এটি সরিয়েছে, সে সম্পর্কে কেউ স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেনি।

ঘটনার পটভূমি

জানা গেছে, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বগারচর ইউনিয়নের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অফিসে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। স্থানীয় কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ কাদির সাজু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য রেজাউল করিম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী, তাঁতী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম এবং বগারচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়ামত উল্লাহসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ

এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর, বকশীগঞ্জ উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার সুমন আওয়ামী লীগ অফিসকে পাবলিক টয়লেট ঘোষণা করেন। শনিবার বিকালে উপজেলা গণঅধিকার পরিষদ বগারচর আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে। বিক্ষোভকারীরা আওয়ামী লীগের দলীয় ও জাতীয় পতাকা অপসারণ করে অফিসের সামনে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড অপসারণ করে অফিসকে পাবলিক টয়লেট ঘোষণা দিয়ে পাবলিক টয়লেটের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়।

সাইনবোর্ডের উধাও হওয়া

২২ ফেব্রুয়ারি রোববার সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভাঙাচোরা পরিত্যক্ত অফিসে পাবলিক টয়লেট লেখা সাইনবোর্ডটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গণঅধিকার পরিষদের কর্মীরা বিকালে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার পরই কতিপয় লোকজন এটি সরিয়ে ফেলেছেন। এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

এই ঘটনাটি রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সংঘাতের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।