রাজশাহীতে যুবদলের ৪১টি কমিটি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন
রাজশাহী মহানগরে সদ্যঘোষিত যুবদলের ৪১টি সাংগঠনিক কমিটি বাতিলের দাবিতে আজ রোববার দুপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরের সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে সংগঠনের একটি অংশ এই কর্মসূচি পালন করে, যেখানে তারা কমিটিতে আওয়ামী লীগের লোকজন অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ তুলে ধরেন।
কমিটি ঘোষণা ও বিতর্কের সূত্রপাত
১৬ ফেব্রুয়ারি দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে যুবদলের ৪১টি সাংগঠনিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম এই কমিটিতে স্বাক্ষর করেন। কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে ২১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রে জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৪১টি শাখার আহ্বায়ক কমিটিতে আটজন করে সদস্য রাখা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, পাঁচজন যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব। তবে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন যে, এই কমিটিতে অন্তত ৩–৪ জন করে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির অঙ্গসংগঠন যুবমৈত্রীর নেতারা স্থান পেয়েছেন।
মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগ ও দাবি
মানববন্ধনে যুবদলের বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজির হাসান বলেন, ৪১টি কমিটির প্রতিটিতে পতিত আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম ও সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম তাদের না জানিয়ে এই 'পকেট কমিটি' গঠন করেছেন।
নাজির হাসান দাবি করেন, এই কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাতিল করতে হবে এবং ত্যাগী নেতাদের নিয়ে পুনরায় কমিটি গঠন করতে হবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি এই দাবি পূরণ না হয়, তবে সামনে বৃহত্তর কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে।
যুবদলের সদস্যসচিবের প্রতিক্রিয়া
এ ব্যাপারে রাজশাহী মহানগর যুবদলের সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, এটি শুধু একটি আংশিক কমিটি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও অনেকেই যুক্ত হবেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, অনেক ত্যাগী নেতা হয় ওয়ার্ড কমিটিতে, না হয় থানা কমিটিতে থাকবেন।
আওয়ামী লীগসহ অন্য দলগুলোর নেতা-কর্মীদের নিয়ে কমিটি ঘোষণার বিষয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের অনেকের সঙ্গে অনেকের ছবি থাকতে পারে, এবং যদি কেউ ঘোষিত কমিটিতে থেকে থাকে, তাহলে তাদের বাদ দেওয়া হবে। তবে তিনি অভিযোগ করেন যে, আজ যারা মানববন্ধন করেছেন, তারা এই বিষয়ে কোনো আলোচনা না করেই হঠাৎ কর্মসূচি দিয়েছেন।
এই ঘটনাটি রাজশাহী মহানগরে যুবদলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক গতিশীলতার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে।
