চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আটজন আহত
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের ফাজিলখাঁর হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিরা হলেন- শাহেদুল আলম, মো. ইমন, মো. মনজুর ও মোহাম্মদ ফারুক, মোহাম্মদ এনাম, সাজ্জাদ হোসেন, মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন ও মোহাম্মদ আবির। তাদের মধ্যে চারজন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং বাকিরা জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে যুক্ত।
আহতদের চিকিৎসা ও পরিস্থিতি
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে শাহেদুল আলমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার পর উপজেলার পিএবি সড়কের ফাজিলখাঁর হাটে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
ঘটনার পটভূমি ও উভয় পক্ষের বক্তব্য
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে সালাহউদ্দিন নামে স্থানীয় এক জামায়াতকর্মীর দোকানে চা খেতে যান বড়উঠান ইউনিয়ন কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনজুর, যুবদলের কর্মী মো. ইমন ও মোহাম্মদ ফারুক। সেখানে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলাপের এক পর্যায়ে দোকানি সালাহউদ্দিনের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয় তাদের। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এই খবর পেয়ে বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে জড়ো হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কর্ণফুলী উপজেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি মো. আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচনের আগে মাদকদ্রব্যসহ বিএনপির একজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই ঘটনার পর থেকে আমাদের নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের চার নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মূলত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে জামায়াতের লোকজন হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন। এতে আমাদের চারজন আহত হয়েছেন।’
পুলিশের তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা
এ বিষয়ে কর্ণফুলী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসপি) মো. জামাল উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্থানীয় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা কর্ণফুলী উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
