বরগুনার বেতাগীতে তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয় দখল করল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ
বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলায় একটি রাজনৈতিক ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের পর থেকে পরিত্যক্ত থাকা বুড়া মজুমদার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা–কর্মীরা। এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
কার্যালয়ে প্রবেশ ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন
স্থানীয় সূত্র ও ভিডিও প্রমাণ থেকে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে বেতাগী উপজেলার বদনীখালী এলাকায় অবস্থিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা জাতীয় পতাকা হাতে প্রবেশ করেন। এই সময় তারা কার্যালয়ের ভেতরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছবি টানানোর পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করেন ও নতুন সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন।
গত সপ্তাহের অনুরূপ ঘটনা
এই ঘটনার আগে গত সোমবার বেতাগী পৌর মার্কেট এলাকায় অবস্থিত আরেকটি পরিত্যক্ত দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে স্থানীয় ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণে নেয়। সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙানো হয়েছিল, কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই ভাঙচুর করে ছবি নামিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয় ছাত্র–জনতার দ্বারা। এই ঘটনাগুলো এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
গণ–অভ্যুত্থানের পরের পরিস্থিতি
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর বেতাগী উপজেলা সদর ও বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে তালাবদ্ধ করা হয়েছিল। সেই সময় থেকে আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীরা আত্মগোপনে চলে যান, কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই নেতা–কর্মীদের অনেকেই আবার সরব হয়ে উঠেছেন। এই পটভূমিতে ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কার্যক্রম রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই ঘটনাগুলো এলাকার শান্তি–শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে বলে তারা উদ্বিগ্ন। পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এখনো এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে দলীয় সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে, বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
