বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা, ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য গঠন সম্পন্ন
জামায়াতে ইসলামীর নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা, ২০২৬-২০২৮ মেয়াদ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা: ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য গঠন সম্পন্ন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী তিন বছরের জন্য তাদের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে। দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত কার্যকালের এই কমিটি গঠন ও শপথ সম্পন্ন হয়েছে। নতুন কমিটিতে সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব পেয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার, যা দলের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নির্দেশ করে।

কমিটির বিস্তারিত গঠন ও নেতৃত্ব

নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে চারজন নায়েবে আমির, সাতজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, ২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, ৫৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা এবং ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি তারিখে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে আমির শূরা সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে দায়িত্বশীলদের নির্বাচন করেন এবং শপথ পরিচালনা করেন। নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলরা সশরীরে এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন, যা দলের একতা প্রদর্শন করে।

নির্বাচিত নায়েবে আমিররা হলেন— এটিএম আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এবং মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল পদে দায়িত্ব পেয়েছেন— মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

নারী প্রতিনিধিত্ব ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন

দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে নারী সদস্য ২১ জন এবং ৫৯ সদস্যের মজলিসে শূরায় নারী সদস্য ১৭ জন রয়েছেন। নারী অংশগ্রহণের এই বৃদ্ধিকে দলটি একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা সামাজিক সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির দিকে তাদের অঙ্গীকার প্রতিফলিত করে।

এছাড়াও, একটি ৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে, যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে মাওলানা এটিএম মাছুমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা হলেন— অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, আবদুর রব, মোবারক হোসাইন ও মাওলানা আ. ফ. ম. আবদুস সাত্তার।

অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন ও সাংগঠনিক লক্ষ্য

সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনতে ঢাকাসহ সারা দেশকে ১৪টি অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চল পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, রংপুর-দিনাজপুরে মাওলানা আবদুল হালিম, বগুড়ায় এটিএম আজহারুল ইসলাম, রাজশাহীতে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, এবং চট্টগ্রামে মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান দায়িত্ব পালন করবেন। এই অঞ্চলভিত্তিক কাঠামো দলের মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম সমন্বয় ও ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হবে।

নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী মাঠপর্যায়ে পুনর্গঠন, কর্মসূচি সমন্বয় এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি সুসংহত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০২৮ সাল পর্যন্ত কার্যকর এই কাঠামোর মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। গত বছরের ২ নভেম্বর আমির নির্বাচিত হওয়ার প্রায় তিন মাস পর এই পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, যা দলের ভবিষ্যৎ কৌশলগত দিকনির্দেশনা তুলে ধরে।