জামায়াত আমিরের ইফতারে এতিমদের প্রতি বিশেষ মমতা, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখালেন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত দেশে এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে কাজ করছে যেখানে একদিন হয়তো কোনো এতিম সন্তান দেশের প্রধানমন্ত্রী হবে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুরে এতিম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
এতিমদের জন্য সংরক্ষিত আসন ও বিশেষ উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন জামায়াত আমির। নিজের জন্য নির্ধারিত সংরক্ষিত আসনে এতিম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বসিয়ে তাদের পাশেই বসে প্রথম রমজানের ইফতার সম্পন্ন করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "এতিমদের থেকে আমরা মনিমুক্তা বের করে আনতে চাই। তাদেরকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই, যেন তারা দেশ ও জাতি গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।"
সরকারের প্রতি আহ্বান ও রাজনৈতিক ঐক্যের ডাক
তিনি বলেন, যে কাজ করলে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন, আমরা আশা রাখবো সরকার সেই কাজটাই করবে। ইফতার-পূর্ব বক্তব্যে জামায়াত আমির সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে দেশ গঠনে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে জামায়াত প্রস্তুত। তবে সরকার যদি জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করে, তবে আমরা নীরব থাকব না।" তিনি সকল ক্ষেত্রে সরকারকে আল্লাহর প্রতিপালন ও বিধান মেনে চলার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের উন্নতির জন্য দলীয় রাজনৈতিক সংকীর্ণতা ও হিংসাত্মক রাজনীতি থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে। জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
গণমাধ্যমের ওপর উদ্বেগ প্রকাশ
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতির খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "গণমাধ্যমের ওপর ফ্যাসিবাদের খড়গ নেমে এসেছে। সাংবাদিকদের এই চাকরিচ্যুতি স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম নিশ্চিতের পথে বড় অন্তরায়। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
ইফতার মাহফিলে উপস্থিতি ও মোনাজাত
ইফতার মাহফিলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারাসহ বিপুল সংখ্যক এতিম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হয়। এই অনুষ্ঠানটি জামায়াতের সামাজিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা এতিম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের বিশেষ মনোযোগের প্রতিফলন ঘটায়।
