দুই দশক পর বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকারের প্রথম কার্যদিবসে সচিবালয়ে উৎসবের আমেজ
বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকারের প্রথম কার্যদিবসে সচিবালয়ে উৎসব

দুই দশক পর বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকারের প্রথম কার্যদিবসে সচিবালয়ে উৎসবের আমেজ

নানান চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দীর্ঘ দুই দশক পর জনগণের রায় নিয়ে জাতীয়বাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের সরকার গঠিত হয়েছে গত মঙ্গলবার। সরকার গঠনের পর গতকাল বুধবার ছিল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের প্রথম কার্যদিবস। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম কার্যদিবস হওয়ায় গতকাল সচিবালয়ের চিত্র ছিল গত দেড় বছরের তুলনায় খানিকটা ভিন্ন। সচিবালয়ের সর্বত্র ছিল উৎসবের আমেজ। নতুন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বরণে সচিবালয়ে ছিল সাজসাজ রব। ফুলের টব দিয়ে সাজানো ছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সব বিভাগীয় অফিস। তবে, এদিন সচিবালয়ের ভেতরে-বাইরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখের পড়ার মতো।

শ্রদ্ধা নিবেদন ও সচিবালয়ে আগমন

গতকাল বুধবার বেলা ১১টার সময় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে তিনি দ্বিতীয়বার শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারপর নতুন প্রধানমন্ত্রী সেখানকার পরিদর্শন বইয়ে সইয়ের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ করেন। স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি জিয়ারত করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ে যান। সচিবালয়ে প্রবেশ করে প্রধানমন্ত্রী নিজ দপ্তরে যান। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও নিজ নিজ দপ্তরে যান। সেখানে নিজ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন। তারপর দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং মতবিনিময় করেন তারা।

মন্ত্রিসভার বৈঠক ও কর্মপরিকল্পনা

মতবিনিময় শেষে বিকালে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নতুন সরকারের শপথের পর এটিই প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা বর্তমান নতুন সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার, কাজের পদ্ধতি এবং কর্মসম্পাদনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ অবস্থান ব্যাখ্যা করে তাদের প্রত্যাশার জায়গা তুলে ধরেন। অন্যদিকে, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেন। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া রমজান মাসে সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সচিবালয়ে প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

এদিকে, নতুন সরকারকে বরণ করতে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ে গত মঙ্গলবার রাত থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়। নতুন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বরণে গতকাল সচিবালয়ে ছিল সাজসাজ রব। মঙ্গলবার রাতেই ফুলের টব দিয়ে সাজানো হয়েছিল সচিবালয়ের সব বিল্ডিং। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ প্রতিটি বিভাগীয় অফিস ফুলের টব দিয়ে সাজানো হয়। আর গতকাল সকাল থেকেই সচিবালয়ে সতর্ক কর্মচঞ্চল পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আগমনে শুভেচ্ছা বিনিময়, অভিনন্দন জানানো ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাখেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে একদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ, অন্যদিকে দায়িত্ব পালনে কর্মব্যবস্ততা ছিল লক্ষণীয়। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আগমন উপলক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় সচিবালয়ের ভেতরে-বাইরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন সচিবালয়ে প্রবেশে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সকাল থেকে দর্শনার্থী প্রবেশে ছিল বেশ কড়াকড়ি। বৈধ কার্ড ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। প্রতিটি কার্ড ভালো করে চেক করে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়। অন্য সময়ের তুলনায় সচিবালয়ে ঢোকার জন্য গতকাল অস্থায়ী পাশও অনুমোদন করা হয়নি।