বাবার মৃত্যুর পর জামিনে মুক্তি পেলেন ছাত্রলীগ নেতা আবু সামা
বাবার মৃত্যুর পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা মো. আবু সামা (সামি)। তবে কারাগারের জটিলতার কারণে তিনি বাবার জানাজায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে তার মুক্তি নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি।
জানাজায় অংশ নিতে পারেননি সামা
আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জানান, মুক্তি পাওয়ার পর আবু সামা বাবার জানাজায় অংশ নিতে বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু কারাগারের বিভিন্ন জটিলতা ও প্রক্রিয়াগত বিলম্বের কারণে তিনি সময়মতো বাড়িতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। ফলে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন এই ছাত্রলীগ নেতা।
বাবার অপেক্ষা পূরণ হলো না
আবু সামার আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন, ছয় মাস ধরে কারাগারে বন্দি ছেলের মুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন বাবা ওমর আলী। তার আশা ছিল, জামিনে মুক্তি পেয়ে ছেলে বাড়ি ফিরবে এবং শেষ বয়সে ছেলের কাঁধে হাত রাখবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল। গত মঙ্গলবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ওমর আলী। ছেলের দুশ্চিন্তা ও বুকভাঙা কষ্ট নিয়েই তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।
আইনি জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা
উচ্চ আদালত থেকে আগেই আবু সামার জামিন মঞ্জুর হয়েছিল। তবে আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জটিলতার কারণে তার মুক্তি আটকে ছিল। এই সময়ের মধ্যেই তার বাবা মারা যান। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. আবু সামা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
গ্রেফতার ও মামলার পটভূমি
দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ২০২৫ সালের ২৩ আগস্ট পল্টন থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে বন্দি ছিলেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ২৬ মার্চ রাজধানীর গোলাপ শাহ মাজার থেকে ফুলবাড়িয়াগামী রাস্তায় অজ্ঞাত ৫০-৬০ জন ব্যক্তি অন্তর্বর্তী সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিল করে।
ওই ঘটনার মামলায় আবু সামাসহ আরও একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল জোনের পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেন তাকে আদালতে এনে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। তখন থেকেই এই ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে আটক ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে তার জামিনে মুক্তি মেলে, কিন্তু পারিবারিক বেদনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় নতুন জীবন।
