মন্ত্রিসভায় ঠাই না পাওয়ায় হতাশ নবীগঞ্জ-বাহুবলবাসী
হবিগঞ্জ জেলার চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপি ভূমিধস বিজয় অর্জন করলেও নতুন মন্ত্রিসভায় জেলার কোনো এমপিই স্থান পাননি। বিশেষ করে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিপুল ভোটে জয়ী ড. রেজা কিবরিয়ার মন্ত্রিত্বের প্রত্যাশা ছিল স্থানীয়দের মধ্যে, যা পূরণ না হওয়ায় ব্যাপক হতাশা ছড়িয়েছে।
প্রত্যাশা ও বাস্তবতার পার্থক্য
নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ড. রেজা কিবরিয়া মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং প্রচারণায় তার অর্থমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা জোরালোভাবে আলোচিত হয়েছিল। জাতীয় গণমাধ্যমেও তার নাম সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় উঠে আসে। এতে নবীগঞ্জ-বাহুবলে উন্নয়ন ও মন্ত্রিত্বের প্রত্যাশা তৈরি হয়, এবং ভোটাররা ১ লাখ ১১ হাজার ৯৯৯ ভোটের ব্যবধানে তাকে নির্বাচিত করেন।
তবে চূড়ান্ত মন্ত্রিসভায় তার নাম না থাকায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর হতাশা দেখা দিয়েছে। গজনাইপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সফিউল আলম বজলু বলেন, "অর্থমন্ত্রী হওয়ার প্রত্যাশায় তাকে নির্বাচিত করা হয়েছিল, কিন্তু মন্ত্রিসভায় তার স্থান না হওয়ায় আমরা হতাশ।"
জেলাভিত্তিক বঞ্চনার অনুভূতি
হবিগঞ্জ ছাড়াও মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার সব আসনে বিএনপি জয়ী হলেও এই তিন জেলার কোনো প্রতিনিধিই মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। এটি স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো এই জেলাগুলোতে বিএনপির ভূমিধস বিজয়, যা বঞ্চনার অনুভূতি বাড়িয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিদুর রহমান বলেন, "আমাদের প্রত্যাশা ছিল ড. রেজা কিবরিয়াকে অর্থমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হবে, কিন্তু তা পূরণ হয়নি। আমরা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান বিষয়টি বিবেচনায় রাখবেন।"
আলোচনা ও দাবির প্রেক্ষাপট
ড. রেজা কিবরিয়া একজন আন্তর্জাতিক মানের অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত, এবং তার মন্ত্রিত্ব না পাওয়াকে অনেকে মেধার অবমূল্যায়ন হিসেবে দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি চলছে, এবং নবীগঞ্জ-বাহুবলবাসী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে তার মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
হবিগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত জিকে গউছের মতো অন্য নেতারাও মন্ত্রিত্বের আলোচনায় ছিলেন, কিন্তু চূড়ান্তভাবে কেউই স্থান না পাওয়ায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, নির্বাচনপূর্ব প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় এখন উন্নয়ন বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অলিউর রহমান বলেন, "জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রী সুবিবেচনা করবেন বলে আশা করছি।" এই পরিস্থিতিতে, নবীগঞ্জ-বাহুবলের মানুষ তাদের প্রত্যাশা ও ভোটের মূল্যায়নের জন্য অপেক্ষমান রয়েছেন।
