রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও বাজার তদারকি জোরদারের আহ্বান খেলাফত মজলিসের
রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে খেলাফত মজলিসের আহ্বান

রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও বাজার তদারকি জোরদারের আহ্বান খেলাফত মজলিসের

পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, বাজার তদারকি জোরদার করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদ এই গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে বৃহস্পতিবার থেকে মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মাস রমজান শুরু হচ্ছে, এবং বুধবার রাতেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তারাবিহ নামাজ আদায় করবেন ও ভোরে সেহরি খেয়ে রোজা পালন শুরু করবেন।

সরকারের নৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব

মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদ তার বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেন, রমজান মাস তাকওয়া, সংযম, আত্মশুদ্ধি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের মাস। এই পবিত্র সময়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, বাজার তদারকি জোরদার করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সরকারের নৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। তিনি গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি অসাধু মজুতদার ও কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি মানবিক আহ্বান

ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব বলেন, রমজান মাসকে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সুযোগ হিসেবে না দেখে মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করতে হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে রোজাদার মানুষের কষ্ট লাঘবে সহযোগিতার মনোভাব প্রদর্শন করাই ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। এই আহ্বানের মাধ্যমে তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

পবিত্রতা রক্ষায় সামাজিক সচেতনতা

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রমজানের পবিত্রতা রক্ষার্থে দিনের বেলা হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখা, অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা বন্ধ করা এবং অনাচার-অবিচার-অত্যাচার প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য জোরালো আহ্বান জানানো হয়। খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, পবিত্র মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় প্রতি বছরই তারা দিনের বেলায় হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছেন এবং এবারও তাদের সেই একই অবস্থান বহাল রয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা

একইসঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় সচেষ্ট থাকা, ইবাদত-বন্দেগিতে অধিক মনোযোগী হওয়া এবং আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে সমাজ সংস্কারের কাজে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান মহাসচিব। এই আহ্বানটি ধর্মীয় চর্চা ও সামাজিক উন্নয়নের মধ্যে একটি সুষম সমন্বয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উত্থাপিত হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।