বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ
বিএনপি নেতা আমীর খসরু অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হলেন

বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে বিএনপি গতকাল মঙ্গলবার নতুন সরকার গঠন করে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় ৭৫ বছর বয়সী প্রবীণ নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে তিনি সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন, যা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

নির্বাচনী সাফল্য ও মন্ত্রিত্ব লাভ

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জয়ী হন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৯ ভোট পান, যেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ শফিউল আলম ৭৬ হাজার ৬৮১ ভোট পেয়েছেন। এই বিজয়ের মাধ্যমে তিনি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি মন্ত্রিত্বের দায়িত্বও অর্জন করেছেন।

রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক পথচলা

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় তিন দশক আগে, যখন তিনি উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হন। এরপর খালেদা জিয়ার সরকারে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এবার তারেক রহমানের সরকারে তিনি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। তাঁর জন্ম ১৯৪৯ সালের ১০ নভেম্বর চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলীর নাজির বাড়িতে। তাঁর বাবা প্রয়াত মাহমুদুন নবী চৌধুরী ১৯৫৪ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে যুক্তফ্রন্ট সরকারে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যা পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটায়।

শিক্ষাজীবনে তিনি চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল ও চট্টগ্রাম কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬৯ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান এবং লন্ডন থেকে হিসাববিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত হন। ১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম-৮ (বন্দর–পতেঙ্গা–ডবলমুরিং) আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাচনী সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি, যা তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা বাড়িয়ে তোলে।

বহুমুখী অবদান ও সামাজিক কর্মকাণ্ড

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী শুধু রাজনীতিই নন, ব্যবসা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও ক্রীড়া ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তিনি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি এবং দক্ষিণ এশিয়া এক্সচেঞ্জ ফেডারেশনের প্রথম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অন্যান্য দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • চট্টগ্রামে দক্ষিণ কোরিয়ার অনারারি কনসাল হিসেবে কাজ করা
  • সোনালী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন
  • জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ শিল্প বিভাগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসেবে সেবা প্রদান

ব্যক্তিগত জীবন ও আর্থিক অবস্থা

আমীর খসরু বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক, যেখানে তাঁর ছেলে ইসরাফিল খসরু বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য। নির্বাচনী হলফনামায় তিনি তাঁর বার্ষিক আয় দেড় কোটি টাকার বেশি দেখিয়েছেন। তাঁর অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৯ কোটি টাকা, যা বর্তমানে ১২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে অর্জনকালীন মূল্য ১ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা, যার বর্তমান মূল্য ২ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা।

মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তিনি শপথ বইয়ে সই করেন, যেখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনা বিএনপির নতুন সরকার গঠনের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের দিকে ইঙ্গিত করে।