সংসদে শপথের পরদিনই মিরপুরের রাস্তা ঝাড়ু দিলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান
শপথের পরদিন মিরপুরের রাস্তা ঝাড়ু দিলেন শফিকুর রহমান

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র একদিন পরই একটি অভিনব উদ্যোগে নজর কেড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরবেলা ফজরের নামাজ শেষে তিনি সরাসরি নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকার মিরপুরের সড়ক ও অলিগলি পরিষ্কার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। গ্লাভস ও মাস্ক পরে স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে বেরিয়ে ঝাড়ু হাতে নেওয়া এই রাজনীতিকের এই দৃশ্য স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সূচনা

এ সময় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে দেন যে, এটি তার পূর্বের দেওয়া একটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ মাত্র। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনো একদিনের প্রচারণামূলক কর্মসূচি নয় বরং একটি নিয়মিত কার্যক্রম। দলের ইউনিটগুলো প্রতিদিনই এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে যাবে বলে তিনি জানান। পেশায় চিকিৎসক এই নেতা তার এলাকাকে রাজধানীর একটি ‘মডেল পাড়া’ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

দলীয় সদস্যদের প্রতি আহ্বান

শফিকুর রহমান দলীয় স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের প্রতি একটি সুনির্দিষ্ট আহ্বান জানিয়ে বলেন, “প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর অন্তত আধাঘণ্টা করে সবাই যেন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কাজে অংশ নেয়। কেউ এক ঘণ্টা সময় দিতে পারলে তা আরও ভালো হবে।” তার মতে, এই উদ্যোগ সরকারি বরাদ্দ পাওয়া না পেলেও অব্যাহত থাকবে, তবে একই সাথে তিনি ন্যায্য উন্নয়ন তহবিল থেকে তার এলাকাকে বঞ্চিত না করার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠার ডাক

বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শফিকুর রহমানের বক্তব্যে রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও সহযোগিতার বার্তা স্পষ্ট। তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সকল প্রার্থীর প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। “মিরপুরকে পরিষ্কার ও নিরাপদ করতে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে কাজ করতে হবে,” বলেন তিনি। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য তুলে ধরে তিনি যোগ করেন, এবার তিনি জিতলেও পরেরবার অন্য কেউ জিততে পারেন, কিন্তু এলাকার উন্নয়ন যেন রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিভেদের কারণে থেমে না থাকে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি হিসেবে আখ্যায়িত করে শফিকুর রহমান বলেন, “এটি কেবল শুরু।” তার পরিকল্পনা হলো, ঢাকায় থাকলে প্রতিদিনই এলাকায় এসে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন, আর ঢাকার বাইরে থাকলে সহকর্মীদের নিয়ে সেখানেই অনুরূপ কাজ চালিয়ে যাবেন। এই পদক্ষেপটি স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

শফিকুর রহমানের এই উদ্যোগটি রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই এটিকে গণসেবার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ রাজনৈতিক ইমেজ তৈরির প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং এ ধরনের কার্যক্রম এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।