ভোলার চরফ্যাশনে যুবলীগ নেতা হত্যা মামলা: বিএনপির জড়িত থাকার অভিযোগ, দল অস্বীকার
ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় যুবলীগ নেতা আবদুর রহিম হত্যার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী বিবি ফাতেমা গতকাল সোমবার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানায় এই হত্যা মামলা করেন।
ঘটনার বিবরণ
গত শনিবার রাত ১০টার দিকে চরফ্যাশনের রসুলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলেরহাট রাস্তার মাথায় আবদুর রহিমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি রসুলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বিএনপির জড়িত থাকার অভিযোগ
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা এবারের জাতীয় নির্বাচনে ভোলা-৪ আসনে (মনপুরা ও চরফ্যাশন উপজেলা) জয়ী বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলামের (নয়ন) অনুসারী বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে, বিএনপি এই অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।
বিএনপির প্রতিক্রিয়া
মঙ্গলবার চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক কামাল গোলদার স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এ ঘটনার সঙ্গে ভোলা-৪ আসনে সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম কিংবা উপজেলা বিএনপি কোনোভাবে জড়িত নয়। যারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তারা বিএনপির কর্মী বা নুরুল ইসলামের অনুসারীও নয়। তারা মূলত মাদক কারবারি। মাদক বিক্রির ভাগ–বাঁটোয়ারার বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা এ ধরনের অভিযোগের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা চাই, আসামি দ্রুত গ্রেপ্তার হোক এবং অপরাধীদের শাস্তি হোক।’
পুলিশের বক্তব্য
চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম জানান, নিহত ব্যক্তির স্ত্রী বিবি ফাতেমা সাতজনকে আসামি করে সোমবার একটি হত্যা মামলা করেছেন। তবে, এখনও পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তিনি বলেন, ‘আসামিদের ধরতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।’
মামলার বর্তমান অবস্থা
মামলাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ ও আসামিদের সনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় ভোলা জেলার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুবলীগ নেতা হত্যার ঘটনায় বিএনপির জড়িত থাকার অভিযোগ এবং দলের অস্বীকার এই মামলাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
