বিএনপির ৩৩ নেতা প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও নতুন
বিএনপির ৩৩ নেতা প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন

বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভায় প্রথমবারের এমপিদের ব্যাপক উপস্থিতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় একটি উল্লেখযোগ্য প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিএনপির মোট ৩৩ জন নেতা প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েই সরাসরি মন্ত্রিপরিষদে জায়গা করে নিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন ১০ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২২ জন প্রতিমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন ভূমিকা

নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এই প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় প্রবেশ করেছেন। বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুটি আসনেই জয়লাভ করেছেন। তবে তিনি বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিয়ে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

তারেক রহমান সংসদে সরকারি দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। মন্ত্রিসভায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও সামলাবেন। এই দ্বৈত দায়িত্ব তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

যারা প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রী হচ্ছেন

প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন এমন নেতাদের তালিকা বেশ দীর্ঘ। দিনাজপুর-৬ আসন থেকে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং ফেনী-৩ আসন থেকে আব্দুল আওয়াল মিন্টু প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন।

এছাড়া সিলেট-১ আসনের খন্দকার আব্দুল মোকতাদির, সিলেট-৪ আসনের আরিফুল হক চৌধুরী, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের আফরোজা খানম রিতা এবং ঝিনাইদহ-১ আসনের মো. আসাদুজ্জামানও প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রীর মর্যাদা পেয়েছেন।

পার্বত্য রাঙ্গামাটির দীপেন দেওয়ান, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এবং শেখ রবিউল আলমও এই কাতারে রয়েছেন। তাদের সকলেরই এটি প্রথম সংসদীয় অভিজ্ঞতা হবে মন্ত্রীর দায়িত্বের সঙ্গে।

প্রথমবারের প্রতিমন্ত্রীদের তালিকা

প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন এমন নেতাদের সংখ্যা আরও বেশি। জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন পুতুল, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর এবং ইয়াসের খান চৌধুরী এই তালিকায় রয়েছেন।

এছাড়া এম ইকবাল হোসেইন, শামা ওবায়েদ ইসলাম, কায়সার কামাল, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন প্রথম সংসদীয় মেয়াদেই।

শরিফুল আলম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ফরহাদ হোসেন আজাদ, ডা. এম এ মুহিত, আহমদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ, মীর মুহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, রাজিব আহসান, মুহাম্মদ আব্দুল বারী এবং মীর শাহে আলমও প্রথমবারের এমপি হয়েই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন।

নতুন মন্ত্রিসভার বৈশিষ্ট্য

এই মন্ত্রিসভার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো অভিজ্ঞতার চেয়ে নতুন মুখদের প্রাধান্য। প্রথমবারের সংসদ সদস্যদের这么大 পরিমাণে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা একটি অস্বাভাবিক ঘটনা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি বিএনপির নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মকে রাজনীতির মূলধারায় নিয়ে আসার একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত।

নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ হলো সংসদীয় প্রক্রিয়া ও মন্ত্রণালয়ের কাজের সঙ্গে দ্রুত অভ্যস্ত হয়ে ওঠা। একইসঙ্গে তাদের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নমূলক কাজেও মনোযোগ দিতে হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই শুরুতেই বিএনপির如此 বড় সংখ্যক নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় আসায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এই নেতাদের কর্মদক্ষতা ও পরিচালনা শৈলীই প্রমাণ করবে এই সিদ্ধান্ত কতটা সফল হয়েছে।