কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতার ওপর যুবদল কর্মীর হামলা, চাঁদার টাকা নিয়ে উত্তেজনা
কুষ্টিয়ায় আ.লীগ নেতার ওপর যুবদল কর্মীর হামলা

কুষ্টিয়ায় চাঁদাবাজি নিয়ে উত্তেজনা: আওয়ামী লীগ নেতার ওপর যুবদল কর্মীর হামলা

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় চাঁদার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক আওয়ামী লীগ নেতার ওপর যুবদল কর্মীর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার খাজানগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়।

ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ

ওমর ফারুক কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এবং খাজানগর এলাকার ফ্রেশ অ্যাগ্রো অটো রাইস মিলের মালিক। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হানিফ কবিরাজ নামের এক ব্যক্তি তার কাছ থেকে তিন দফায় ১৯ লাখ টাকা চাঁদা নিয়েছে। হানিফ কবিরাজ সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদল কর্মী হিসেবে পরিচিত।

ওমর ফারুক বলেন, ‘হানিফ কবিরাজ নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার কাছ থেকে টাকা আদায় করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিছুদিন আগে সে আবারও ১০ লাখ টাকা দাবি করেছিল। বিষয়টি আমি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকারকে জানাই। এরপর হানিফ আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয় এবং আজ বিকালে আমার প্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সে তার দল নিয়ে হঠাৎ আক্রমণ করে।’

বিক্ষোভ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ

ঘটনার পর চালকল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। তারা অবিলম্বে হানিফ কবিরাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিক্ষোভকারীরা কুষ্টিয়া-আলমডাঙ্গা আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করেন, যা এলাকায় যোগাযোগ বিঘ্নিত করে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হানিফ কবিরাজ কুষ্টিয়া যুবদলের সমন্বয়ক আবদুল মাজেদের সঙ্গে থাকা অবস্থায় খাজানগর এলাকার মিলমালিকদের হুমকি দিয়ে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করেন। তাদের চাঁদাবাজির কারণে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

দলীয় প্রতিক্রিয়া ও নির্বাচনী প্রেক্ষাপট

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব ও কুষ্টিয়া-৩ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী মো. জাকির হোসেন সরকার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। তাতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নীতি পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের কারণে কেন্দ্রীয় যুবদল হানিফ কবিরাজকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে। দল তার কোনও অপকর্মের দায়দায়িত্ব নেবে না বলে জানানো হয়।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের ১৪৩টি ভোটকেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে জামায়াতের প্রার্থী মুফতি আমির হামজা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. জাকির হোসেন সরকার ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫৫৯ ভোট পেয়েছেন, যা এই এলাকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঘটনাটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।