প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের বিদায়ী ভাষণ: সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের অঙ্গীকার পূরণের দাবি
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর জন্য তিনটি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন। তিনি ও তার সহকর্মীরা— সবাই তারা সেই অঙ্গীকার রক্ষার চেষ্টা করে গেছেন। কোথায় কতটুকু সাফল্য অর্জন করতে পেরেছেন, কোথায় ব্যর্থ হয়েছেন— সে বিচারের ভার জনগণের ওপর থাকলো।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে একথা বলেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, চব্বিশের জুলাই মাসে বাংলাদেশের মানুষ এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাদের মুক্তি, আকাঙ্ক্ষা ও মর্যাদার দাবি উচ্চারণ করেছিল। সেই সময় দেশ একটি গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও মানবিক সংকটে নিপতিত ছিল। রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল, গণতন্ত্র হয়েছিল ধুলিস্যাৎ, ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চিত। ঠিক সেই সংকটময় সময়ে তাকে আহ্বান জানানো হয়েছিল— একটি লক্ষ্য সামনে রেখে।
তিন দায়িত্ব পূরণের প্রচেষ্টা
তিনি বলেন, তাদের প্রচেষ্টায় কোনও ঘাটতি ছিল না। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনীতি ও প্রতিশোধের ঊর্ধ্বে রেখেছেন। তারা ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক, আর্থিক সংস্কারে হাত দিয়েছেন— যাতে ভবিষ্যতে কোনও সরকার জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজেকে স্থাপন করতে না পারে। আর সর্বোপরি, তারা একটি উৎসবমুখর, অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করেছেন, যার মাধ্যমে জনগণ আবার তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে।
নতুন বাংলাদেশের জন্ম ও কৃতজ্ঞতা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এই নির্বাচন কেবল একটি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়— এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন অভিযাত্রার সূচনা। নতুন বাংলাদেশের জন্ম। এই অর্জনের পেছনে যারা ছিলেন— জুলাইয়ে রাস্তায় নেমে আসা প্রতিবাদকারী তরুণ-তরুণীরা, সেই সাহসী মানুষগুলো, শহীদ ও আহতরা— তাদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন। তাদের অভূতপূর্ব ত্যাগ ছাড়া এই পরিবর্তন সম্ভব হতো না।
এই প্রক্রিয়া সফল করতে দেশের আবালবৃদ্ধবণিতা সকলেই সহযোগিতা করেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে দেশের রাজনৈতিক দলসমূহ, নির্বাচন কমিশন, সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের সদস্যরা আন্তরিক সহযোগিতা করেছেন। তাদের প্রতি তার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা রইলো। তাদের ধৈর্য, পেশাদারিত্ব ও আস্থার ওপর ভর করেই এই পথচলা সম্ভব হয়েছে।
