বগুড়ায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পুলিশ তদন্তে
বগুড়ায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন

বগুড়ায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনা

বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকার টেম্পল সড়কে অবস্থিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কার্যালয়ে হঠাৎ করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। আজ সোমবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে এই ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত এই কার্যালয়ের দোতলায় পতাকা উত্তোলনের পর বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় একটি ছবি পোস্ট করা হয়।

ফেসবুক পোস্ট ও প্রতিক্রিয়া

ফেসবুক পোস্টে লেখা ছিল, ‘বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন দলীয় নেতা–কর্মীরা। আমাদের কেউ দাবায়া রাখতে পারবা না। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় হোক দেশরত্ন শেখ হাসিনার।’ তবে আজ রাত সাড়ে আটটা দিকে কার্যালয়ে গিয়ে আর জাতীয় পতাকা দেখা যায়নি, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।

কার্যালয়ের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা

এই কার্যালয়টি একটি পুরোনো ভবনের নিচতলায় অবস্থিত। গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা সাতমাথা টেম্পল সড়কে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এর পর থেকেই কার্যালয়টি কার্যত পরিত্যক্ত ছিল। একই ভবনের দোতলায় ছাত্র ইউনিয়নের জেলা কার্যালয় রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য

সিপিবির বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি আমিনুল ফরিদ জানান, ‘বগুড়ায় একের পর এক খুন হত্যার প্রতিবাদে সোমবার সিপিবির প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি ছিল। বেলা চারটা পর্যন্ত আমরা কার্যালয়ে ছিলাম। তখন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে কোনো জাতীয় পতাকা উড়তে দেখিনি। সম্ভবত বিকেল চারটার পর এই জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয়েছে।’

অন্যদিকে, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম (বাদশা) মন্তব্য করেন, ‘আওয়ামী লীগের ভাঙা কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয়েছে বলে জেনেছি। জেলা আওয়ামী লীগ তাদের ফেসবুকে নাকি এ–সংক্রান্ত একটি ছবি পোস্ট করেছে। ছবিটা আজকের কি না, তা নিশ্চিত নয়। ঘটনা সত্য হয়ে থাকলে এর দায় প্রশাসনের।’

পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ

এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান বলেন, ‘পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনে কে বা কারা আজ বিকেলে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের ভাঙা কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’

এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং পুলিশের তদন্তের ফলাফল সকলের জন্য অপেক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।