রাজনৈতিক সমস্যা কেন হয় তা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তার মতে, বিদ্যমান রাজনৈতিক সমস্যার গভীর উৎস হচ্ছে আদর্শগত সংকট। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিন বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
আদর্শগত সংকটই মূল কারণ
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “সংসদে যে উত্তাপ তৈরি হচ্ছে তা কেবল মাত্র কিন্তু এই মুহূর্তের রাজনৈতিক আচরণের সমস্যা না। এই রাজনৈতিক আচরণের সমস্যার গভীর উৎস হচ্ছে আদর্শগত সংকট। যখন কেউ পবিত্র ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে, যখন কেউ স্বাধীনতার চেতনার কেনাবেচা করতে চায়, যখন কেউ জুলাই বিপ্লব নিয়ে ব্যবসা করতে চায়, তখন সেই সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং নেতাকর্মীদের এই ধরনের আচার-আচরণের সমস্যা হতে বাধ্য।”
জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “আজকের প্রেক্ষাপটে জাতি আমাদের কাছে যে ঐক্য চায়, জাতীয় সংসদে যে ঐক্য চায়, সরকার গঠন করার ক্ষেত্রে আমরা যারা যতটুকু পেরেছি ঐক্যবদ্ধ থেকেছি। বাকিটা সকলে মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। সেই কাজ করতে চাইলে আমাদেরকে বিরোধীদলকে সহযোগিতা করতে হবে। কিন্তু, বিরোধীদলের মাথায় রাখতে হবে সহযোগিতার ক্ষেত্রে তাদের প্রধান বাধা হচ্ছে আদর্শগত সংকট।”
বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান
বিরোধী দলকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “জুলাইয়ের সমস্ত রক্তের দাগ আওয়ামী লীগ মুছে না ফেলা পর্যন্ত এই বিতর্কের যেমন মীমাংসা হবে না, ৭১ এর গণহত্যার প্রশ্নেও একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান তারা (জামায়াত) না নেওয়া পর্যন্ত এই বিতর্ক চলতেই থাকবে। তবে আশার দিক হচ্ছে, বিএনপি একদিকে এই বিতর্ক চালিয়ে যাবে তার সংবিধানের মধ্যে, সংসদের মধ্যে, গণতন্ত্রের মধ্যে এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে। এর বাইরে তা যেতে দেবে না। কিন্তু, আপস করা হবে না। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েই আমি মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, তিনি তারেক রহমানের এই সরকারকে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন তার উদ্বোধনী বক্তৃতায়।”
রাজনৈতিক দলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য
মন্ত্রী বলেন, “আমরা জানি যেকোনো আচার-আচরণ, তার উৎস থাকে রাজনৈতিক দলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মধ্যেই। এ কথা খুব কঠিন যদি পরাজিত আওয়ামী লীগ আবার এই সংসদে কোনোদিন ফিরে আসে, সে যদি দাবি করে ২৪ জুলাইয়ের গণহত্যার কথা বলা যাবে না। তাতে কিন্তু তার গা থেকে, হাত থেকে, রক্তের দাগ মোছা যাবে না। ঠিক তেমনি ১১ দলীয় জোটের প্রধান দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের সকল সহকর্মীদের মনে রাখতে হবে, তারা ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। তারা অবিভক্ত পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। এমনকি, তারা এই মুহূর্ত পর্যন্ত বক্তৃতায় অনেকেই বলেছেন, তারা শরিয়া আইন কায়েম করতে চান। এই ব্যাপারে খুব পরিষ্কার একটা ধারণা থাকতে হবে।”
জামায়াতের নির্বাচনী পরিসংখ্যান
গত জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের আসন সংখ্যা নিয়ে তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশসহ তার ১১ দলীয় জোটের এবারের নির্বাচনে যে জাদুকরী সংখ্যা, তা দেখে এটা একটা গবেষণার দাবি রাখে। কেন না জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ স্বতন্ত্রভাবে যতবার নির্বাচন করেছেন ততবারই পাঁচ শতাংশের মধ্যেই কিন্তু তার ভোট সীমাবদ্ধ ছিল। এবারের নির্বাচনেই তার ভোটের পরিসংখ্যানটা পরিবর্তিত হয়েছে। যে মুহূর্তে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থক ভোটাররা বাংলাদেশে নির্বাচন করতে পারে নাই, ভোট দিতে আসে নাই।”



