সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) ২০২৬-২০২৭ সেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের মনোনয়নপত্র বাতিলের ঘটনা বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, গঠনতন্ত্র ও নিয়ম ভঙ্গ করে অ্যাডহক কমিটি যাচাই-বাছাই না করেই ৪০ জনের বেশি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছে। অপরদিকে, বিএনপি সমর্থকরা জানিয়েছেন, জুলাই আন্দোলনকারীদের লিখিত আবেদন ও আইনজীবীদের আপত্তির কারণে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা অংশ নিতে পারছেন না।
মনোনয়ন বাতিলের প্রক্রিয়া
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ সেশনের নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য আগামী ১৩ ও ১৪ মে দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নির্বাচনে সভাপতি ও সম্পাদকসহ মোট ১৪টি পদে আগামী এক বছরের জন্য নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন আইনজীবীরা। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের পর মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে শুরু হয় যাচাই-বাছাই কার্যক্রম। তবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী। সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন বৈধ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। তবে প্রার্থী তালিকায় আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীদের নাম না থাকায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ ও মিছিল করেন তারা।
প্রতিবাদ ও পাল্টা প্রতিবাদ
পরে মনোনয়ন বাতিলের প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান করেন আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীরা। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্থানটি দখলে নেন বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা এবং সেখানে মিছিল করেন।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সদ্য মনোনীত আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনকারীরা লিখিত আবেদন করে বলেছে, যারা ইতিপূর্বে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানারে নির্বাচন করেছে বা সমর্থন করেছে, তাদের যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া হয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বিশেষ সাধারণ সভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত কাউকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। এখানে আমাদের কিছু বলার নেই।’
আওয়ামী সমর্থকদের বক্তব্য
তবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হতে না পারলেও সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্য পাঠান আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা। সিনিয়র আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই বক্তব্যে বলা হয়, কেউ কোনও দলের বা সংগঠনের পক্ষ থেকে দলবদ্ধ হয়ে মনোনয়ন দাখিল করেননি। বারের তথাকথিত বিশেষ সাধারণ সভার নোটিশ কোনও প্রার্থীকে না দিয়ে অ্যাডহক কমিটি মধ্যরাতে বার্তা পাঠিয়ে পরদিন দুপুরে মনগড়া সভা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা অবৈধ ও নিন্দনীয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, উৎসবমুখর পরিবেশে আইনজীবী সমিতিতে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। কিন্তু বারের সংবিধান ও নিয়ম ভঙ্গ করে এবং সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ৪০ জনের বেশি প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার অপপ্রয়াস অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। অ্যাডহক কমিটির এই নজিরবিহীন ও প্রহসনমূলক নির্বাচন সুপ্রিম কোর্ট বারের ৭৭ বছরের ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। বিশেষ সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত বাতিল করে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তারা।
পূর্ববর্তী ঘটনা
এর আগে গত ২৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির এক বিশেষ সাধারণ সভায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির মঞ্জুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভা পরিচালনা করেন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন।



