উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজা রাজধানীর ধানমন্ডির মাসজিদ-উত-তাকওয়ায় (তাকওয়া মসজিদ) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১ জুন) মাগরিবের নামাজের পর তাঁর জানাজায় পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে আজ বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পরবর্তী জানাজা ভোলায়
বর্ষীয়ান এই নেতার পরবর্তী জানাজা হবে আগামীকাল (মঙ্গলবার) ভোলায় তার গ্রামের বাড়িতে। তোফায়েল আহমেদের ছোট ভায়েরা ডা. বেলায়েত হোসেন মোল্লা বলেন, জানাজা শেষে স্কয়ার হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হবে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ। আগামীকাল সকালে ভোলায় নেওয়া হবে তাঁকে। সেখানে তিনটি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপরে মা-বাবার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।
শ্রদ্ধা নিবেদন
এ সময় উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতায় তোফায়েল আহমেদের যে অবদান, তা আমাদের চিরদিন মনে রাখতে হবে। তাঁর সাহসী পদচারণা আমাদের পুনরুজ্জীবিত করবে। আমি তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি। যতদিন বাংলাদেশ আছে ততদিন মানুষের অন্তরে তোফায়েল আহমেদ বেঁচে থাকবেন।”
তিনি আরও বলেন, “তোফায়েল আহমেদের প্রয়ানে অফুরন্ত ক্ষতি হলো। তিনি অসুস্থ ছিলেন, তবুও আমাদের মাঝে একটা উৎসাহ ছিল যে আমাদের নেতা আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। এখন তিনি নেই, কিন্তু তাঁর যে প্রেরণা, মহীমা, ত্যাগ ও সাহস সেটা যেনো জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।”
জীবন ও পরিবার
সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা আহমেদ গত বছরের ২০ নভেম্বর মারা যান। তাদের একমাত্র সন্তান তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নী একজন চিকিৎসক। তার জামাতা তৌহিদুজ্জামান তুহিন বর্তমানে রাজধানীর একটি হাসপাতালে কার্ডিওলজিস্ট হিসেবে কর্মরত।
শারীরিক অবস্থা
বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন প্যারালাইজডসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গুরুতর অবস্থায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। সে দিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। অবশ্য পরবর্তীতে চিকিৎসকরা বিষয়টি নাকচ করে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন।
রাজনৈতিক জীবন
উল্লেখ্য, তোফায়েল আহমেদ ৯ বার জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।



