কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে সাঈদ আবদুল্লাহ সিয়াম (২২) নামে এক প্রেমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) ভোর ৫টার দিকে চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মুন্সী বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত প্রেমিকাকে আটক করেছে পুলিশ। এ ছাড়াও ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিহতের বন্ধু আরিয়ান খান মাহিদকেও আটক করা হয়েছে।
নিহত ও আটকের পরিচয়
নিহত সাঈদ আবদুল্লাহ সিয়াম (২২) ওই গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। আটক নাঈমা জাহানের (১৬) বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়। প্রেমিক ডাকায় গতকাল রবিবার রাতে তিনি লক্ষ্মীপুর গ্রামে আসেন। আটক সিয়ামের বন্ধু আরিয়ান পাশের বাতিসা ইউনিয়নের চাঁন্দকরা গ্রামের বাসিন্দা।
প্রেমিকার বক্তব্য
পুলিশের হাতে আটকের পর প্রেমিকা নাঈমা জাহান উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, তিন বছর আগে মোবাইলে সিয়ামের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাদের শারীরিক সম্পর্ক হয়। তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন; দুই মাস আগে গর্ভের সন্তান নষ্ট করেন সিয়াম। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে টালবাহানা করতে থাকেন। রবিবার ২০ হাজার টাকা নিয়ে লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাড়িতে আসতে বলেন সিয়াম। রবিবার রাতে সিয়ামের কথামতো লক্ষ্মীপুর গ্রামে আসেন। সেখানে সিয়াম ও তার বন্ধু আরিয়ান ছাড়া অন্য কেউ ছিলেন না। বন্ধুসহ রাতযাপনের পর আজ ভোরে সিয়াম তাকে বাসা থেকে চলে যেতে বলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ঘরে থাকা একটি ছুরি দিয়ে সিয়ামের পেটে আঘাত করেন তিনি।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘোষগ্রামের বাসিন্দা মৃত আবদুল জলিল মৃধার মেয়ে নাঈমা জাহান সিয়ামের বাড়িতে অবস্থান করেছিল। ভোরে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে নাঈমা ক্ষিপ্ত হয়ে একটি ধারালো ছুরি দিয়ে সিয়ামের পেটে আঘাত করেন। পরে পরিবারের লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় সিয়ামকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ, কিশোরী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন বছর আগে নাঈমার সঙ্গে সিয়ামের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত তিন বছর ধরে তাদের প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। এর মধ্যে দুজনে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে একাধিকবার রাতযাপন করেন। দুই মাস আগে গর্ভের সন্তান নষ্ট করেন সিয়াম। বিয়ের জন্য চাপ দিলে সিয়াম টালবাহানা করতে থাকেন। এরই মধ্যে নাঈমাকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাড়িতে আসার জন্য চাপ দেন প্রেমিক। টাকা জোগাড় করতে না পেরে সিয়ামের কথা রক্ষায় নাঈমা রবিবার রাতে লক্ষ্মীপুর গ্রামে সিয়ামের পুরাতন বাড়িতে আসেন। সেখানে একটি কক্ষে সিয়াম, নাঈমা ও আরিয়ান রাতযাপন করেন। ভোরে সিয়াম প্রেমিকাকে বাসা থেকে চলে যাওয়ার জন্য বলেন, যাতে আশপাশের কেউ না দেখে। বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ঘরে থাকা ছুরি দিয়ে সিয়ামের পেটে আঘাত করেন নাঈমা।
স্থানীয়দের বক্তব্য
স্থানীয় লোকজন জানান, ছুরিকাঘাতে আহত সিয়ামের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন নাঈমা ও আরিয়ানকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় সিয়ামকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সংবাদ পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার ও দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি জব্দ করে পুলিশ।
পুলিশের বক্তব্য
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনার পর অভিযুক্ত নাঈমাকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিয়ামের বন্ধু আরিয়ানকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।’



