বগুড়ায় পুলিশ কনস্টেবল সুমন রেজার বিরুদ্ধে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সদস্যের কাছ থেকে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের পর এবার ১২ বছরের নাবালিকা শ্যালিকাকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। শ্যালিকা প্রাইভেট পড়তে গেলে তিনি তাকে নিয়ে উধাও হয়েছেন।
স্ত্রীর মামলা
এ ব্যাপারে তার স্ত্রী লাবণ্য আক্তার শাজাহানপুর থানায় অপহরণ মামলা করেছেন বলে রোববার বিকালে শাহাজানপুর থানার ওসি আশিক ইকবাল জানিয়েছেন। লাবণ্য আক্তার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, গত ৭ জুন বিকাল ৩টার দিকে তার বোন প্রাইভেট পড়তে বাসা থেকে বের হয়। এরপর বাড়িতে না ফেরায় পরদিন শাজাহানপুর থানায় জিডি করা হয়। পরে জানা যায়, প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে কনস্টেবল সুমন রেজা মোটরসাইকেলে তার বোনকে অপহরণ করে নিয়ে যান। বর্তমানে সুমন রেজা কর্মস্থলে অনুপস্থিত ও পলাতক রয়েছেন।
শাহাজানপুর থানার ওসি আশিক ইকবাল জানান, শ্যালিকাকে অপহরণের অভিযোগে কনস্টেবল সুমন রেজার বিরুদ্ধে শুক্রবার মামলা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত ও অপহৃতাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
পূর্বের অভিযোগ
জানা গেছে, সুমন রেজাসহ দুই কনস্টেবল নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গত ১৫ মে বগুড়া মহানগরীর নিশিন্দারা এলাকায় চতুর্থ আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশের (এপিবিএন) সদর দফতরে যান। তখন এপিবিএন সদস্য তানজিমকে ডেকে তার মোটরসাইকেলটি চোরাই বলে দাবি করেন। এরপর মোটরসাইকেলটি ডিবি অফিসে নেওয়ার কথা বলে রেজাসহ দুজন উধাও হন। পরে এপিবিএনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এ ঘটনায় এপিবিএন সদস্য তানজিম বগুড়ার পুলিশ সুপারের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন; কিন্তু লিখিত না দেওয়ায় কনস্টেবল সুমন রেজার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পুলিশের বক্তব্য
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতাউর রহমান জানান, কনস্টেবল সুমন রেজার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এপিবিএন সদস্যের মোটরসাইকেল ছিনতাই, ছুটি না নিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত এবং সর্বশেষ নিজ শ্যালিকাকে অপহরণের অভিযোগে মামলার আসামি। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনমত
এদিকে পুলিশ কনস্টেবল সুমন রেজার বিরুদ্ধে মিথ্যা পরিচয়ে এপিবিএন সদস্যের মোটরসাইকেল ছিনতাই, শ্যালিকা অপহরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠায় জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।



