চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ছয় জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করেছে প্রসিকিউশন। পরে আসামিপক্ষের শুনানির জন্য আগামী ২৪ জুন দিন ধার্য করেছন ট্রাইব্যুনাল।
শুনানির দিন ধার্য
সোমবার (২২ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। তিনি এ মামলার প্রাইমা ফেসি বিবেচনায় ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন। পরে ডিসচার্জের (অব্যাহতি) ওপর শুনানির জন্য সময় চান আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
গ্রেফতার ও পলাতক আসামি
এ মামলায় পাঁচ জন গ্রেফতার রয়েছেন। এর মধ্যে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির হননি চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী। তবে আইন অনুযায়ী অসুস্থতাজনিত কারণে কেউ আদালতে আসতে না পারলে মামলার কার্যক্রম চালানোর সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ফজলে করিম আজ অনুপস্থিত থাকলেও তার আইনজীবী ছিলেন।
গত ৪ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর প্রসিকিউশনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। ওই দিনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় ট্রাইব্যুনালে হাজির হননি ফজলে করিম। এ কারণে তার আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়।
এ মামলায় গ্রেফতার পাঁচ আসামি হলেন– ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবু।
হাছান মাহমুদ ছাড়া পলাতক অন্য আসামিরা হলেন– সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।
আইনি প্রক্রিয়া
এর আগে গত ১৩ মে পলাতক ১৭ আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তাদের হয়ে আইনি লড়াই করছেন আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম।
প্রসিকিউশন জানায়, গত ৭ এপ্রিল তিনটি অভিযোগে ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ৫ এপ্রিল এ ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়। মামলার প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম ও হৃদয় চন্দ্রকে শহীদ করার দায় আনা হয়। এছাড়া জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার কথা উল্লেখ করা হয় তিন নম্বর অভিযোগে।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় পাঁচ জন গ্রেফতার রয়েছেন। এর মধ্যে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির হননি চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী। তবে আইন অনুযায়ী অসুস্থতাজনিত কারণে কেউ আদালতে আসতে না পারলে মামলার কার্যক্রম চালানোর সুযোগ রয়েছে।”



