নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত কয়েক দিনের মাঝারি ও ভারি বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার সব নদ-নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে উপজেলার বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম
রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কলমাকান্দা ডাকবাংলো পয়েন্টে উব্দাখালী নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নেত্রকোনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার থেকে নেত্রকোনাসহ ভারতের চেরাপুঞ্জিতে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। এতে জেলার ছোট-বড় সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে কলমাকান্দায় উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে।
প্লাবিত এলাকা ও চলাচলে সমস্যা
উব্দাখালী ছাড়াও উপজেলার মহাদেও নদ, বৈঠাখালী, মঙ্গলেশ্বরী ও গণেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে উপজেলার আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। বেশ কিছু রাস্তাঘাট ও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পানি এসেছে। পোগলা ইউনিয়নের কালাইকোনা, জীবনপুর, গুয়াতলা; কৈলাটি ইউনিয়নের ঘনিচা, খলা, সনুড়া, কনুড়া, চারালকোনা, বাবনীকোনা, বড়পারুয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের সামনে পানি ঢুকছে। এতে ওই এলাকার মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।
প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম মিকাইল ইসলাম বলেন, 'উপজেলায় এখন পর্যন্ত বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তবে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। রোববার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করা হয়েছে। এতে সব ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত, জরুরি মুঠোফোন নম্বর খোলা, শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।'
পাউবোর নেত্রকোনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিতে জেলার সব নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে কলমাকান্দায় উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।'



